বৃহঃস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১
ছবি সংগৃহিত
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলন ভালো হলেও বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকার না আসায় জমিতেই পাকতে শুরু করেছে কুমড়া। দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে জমিতে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিতে পারে। তবে কৃষকদের এসব কুমড়া বাজারে নিয়ে বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কুমড়ার কম-বেশি আবাদ হলেও হাজীগঞ্জের ডাকাতিয়া নদী এলাকার পলিমাটি ঘেরা বলাখলা, শ্রীনারায়ণপুর ও অলিপুর গ্রামে চাষ করা হয়েছে মিষ্টি কুমড়া। সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করা হয়। এ বছর এলাকায় মিষ্টি কুমড়ার পাশাপাশি খিরাই ও শসার আবাদ হয়েছে এবং ফলনও ভালো।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, মৌসুম ভিত্তিক নিরাপদ শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল আবাদে কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করা হয়। এ অঞ্চলের মাটি অপেক্ষাকৃত উর্বর হওয়ায় শাকসবজি আবাদে সময়, শ্রম ও খরচ কম হওয়ায় প্রতি বছরই মিষ্টি কুমড়ার আবাদ বাড়ছে। এ বছর উপজেলার প্রায় ৬১৮ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে বলাখাল ও শ্রীনারায়ণপুর গ্রামে হাইব্রীড জাতের কুমড়া চাষাবাদ করা হয়েছে। এ কুমড়া এখন বিক্রয়ের সময়। প্রতি বছর এ সময়ে জমির প্রায় ৬০ শতাংশ কুমড়া বিক্রি হয়ে যায়। তবে এ বছর কুমড়া আবাদ করে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা, কারণ জমিতে কুমড়া পেকে থাকলেও পাইকার নেই।
বলাখাল এলাকার কৃষক ছিদ্দিক বলেন, প্রতি বছর এ সময়ে ঢাকার কারওয়ান বাজার, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর থেকে পাইকাররা এসে উৎপাদিত কুমড়া কিনে নিতেন। কিন্তু এ বছর পাইকারদের দেখা মিলছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। তিনি বলেন, যদি আর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কুমড়া বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে মাঠে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হবে না।
অলিপুর গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে আমাদের চিন্তা করতে হত না। বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে জমি থেকে কিনে নিতেন। প্রতি পিস কুমড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার কুমড়ার বাজার দর নেই, পাইকারও নেই। স্থানীয় বাজারে ৬ থেকে ৭ কেজি ওজনের একটি কুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করছি, তবুও ক্রেতা পাচ্ছি না।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম জানান, এ বছর হাজীগঞ্জ উপজেলায় মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে দ্বিগুণ। ২০২৩ সালে আবাদ হয়েছিল ২৮৬ হেক্টর, তবে ২০২৪ সালে এ আবাদ বেড়ে ৬১৮ হেক্টরেরও বেশি জমিতে হয়েছে। ক্রেতা না থাকায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তবে আমরা কৃষকদের এসব মিষ্টি কুমড়া বিভিন্ন পাইকারি বাজারে নিয়ে বিক্রি করার পরামর্শ দিচ্ছি।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)