রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
ছবি সংগৃহীত
৩০ বছর বয়সে মওলানা জিল্লুর রহমান ১৯৮৫ সালে নাটোরের লালপুর উপজেলার গোসাইপুর-মিল্কিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৪০ বছর। যুবক থেকে এখন তিনি বয়সের দিক দিয়ে বৃদ্ধ। তাই প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে ৪০ বছর ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে তাকে রাজকীয়ভাবে বিদায় দিয়েছেন মুসল্লিরা।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা লালপুর উপজেলার গোসাইপুর-মিল্কিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ফুলে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন মসজিদের মুসল্লিরা।
৭০ বছর বয়সী মাওলানা জিল্লুর রহমান উপজেলার আড়বাব গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে।
দীর্ঘ ৪০ বছর ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন শেষে বার্ধক্যজনিত কারণে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা তার সম্মানে এই ব্যতিক্রমী বিদায়ের আয়োজন করেন।
শুক্রবার বিকেলে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ফুলে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে তাকে নিজ বাড়ি আড়বাব গ্রামে পৌঁছে দেন। এ সময় গাড়ির পেছনে ছিল বিশাল মোটরসাইকেল বহর। বিদায় বেলায় রাস্তা দু'পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য নারী-পুরুষ বিদায় সংবর্ধনা দেন। এ সময় ইমামকে দেখতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ভিড় জমায়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘ইমাম সাহেব ছিলেন আমাদের সবার প্রিয় অভিভাবক। ইসলামের নিয়ম অনুসারে তিনি আমাদের নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর এই মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে মুসল্লিরা ইমামের কাছ থেকে কোরআন ও হাদিস থেকে অনেক আমল শিক্ষা নিয়েছেন। আজ তার দিনের দায়িত্ব সমাপ্ত হয়েছে। ইমামের সম্মানে এলাকাবাসী এ আয়োজন করেছেন।’
ইমাম ও খতিব মাওলানা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে বড় একটি সময় এই মসজিদ আর গ্রামের মানুষের সঙ্গে কেটেছে। আমি সারাজীবন দ্বীনের খেদমতে কাজ করেছি। মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে, তা আগে বুঝিনি। আমার মুসল্লিরা আমাকে আজ যে সম্মান দিয়েছেন, তা সারাজীবন মনে থাকবে। তাদের জন্য দোয়া করি, তারা যেন আল্লাহপাকের দ্বীনের ওপর সর্বদা থাকতে পারেন।’
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)