সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে হামলার ঘটনার পর যৌথ বাহিনীর অভিযান শেষে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৭। অভিযানে এ পর্যন্ত ২৫ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে বিষয়টি জানান র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত দুইটার দিকে প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী অতর্কিতে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভাঙচুর করে।
র্যাব অধিনায়ক বলেন, হামলায় জঙ্গল সলিমপুরে দুর্গ গড়ে তোলা ইয়াসিন বাহিনী অংশ নেয়। এ সময় ‘ক্যাম্পে থাকা প্রায় ১৫০ র্যাব ও পুলিশ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য অন্তত চারটি স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে দেয় হামলাকারীরা। ফলে সদস্যদের গাড়ি অনেক দূরে রেখে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে যেতে হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, হামলার পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত ২৫ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তবে অভিযানের একপর্যায়ে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য গুরুতর আহত হননি বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডসংলগ্ন সীতাকুন্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি খাসজমি রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ নামের একটি সংগঠন ওই জমি দখল করে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে সেখানে।
প্রায় তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দখল করে সন্ত্রাসীরা পাহাড় কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। এসব সন্ত্রাসীরা দেশের জলবায়ু উদ্বাস্তুদের স্বল্পমূল্যে পাহাড়ে ঘর করার সুযোগ করে দিত। আর নিজেরা গড়ে তুলেছে অস্ত্র এবং মাদকের সাম্রাজ্য। বর্তমানে এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস।
ভূমিদস্যু ও অপরাধী গোষ্ঠীর আস্তানা হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ বলেও উল্লেখ করেন স্থানীয়রা। সেখানে সক্রিয় কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলো মো. ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন ইয়াসিন বাহিনী।
যারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সীতাকুন্ড আসনের সাবেক এমপি দিদারুল আলম দিদার ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার মদদপুষ্ট। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতীতে একাধিকবার অভিযান চালালেও পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া নিহত হন। আহত হন আরও তিন সদস্য। এরপর ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য একযোগে অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পরে সেখানে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ওই এলাকায় কারাগার স্থানান্তরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার। রোববার রাতের হামলায় সেই ক্যাম্পের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
জেলার খবর