বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। বুধবার। এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতা বহির্ভূত ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপের অংশ বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন মেলোনি। তার ডানপন্থী সরকার মিত্রদের প্রতি অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করছে বলে দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের মাঝে ওই সমালোচনা করেন তিনি।
স্পেন ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশ সাধারণত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলেছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এক্ষেত্রে মেলোনি সবাইকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি সমালোচনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মেলোনি বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কারণ এটি আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কাঠামোকে ভেঙে ফেলবে; যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নাটকীয় পরিণতি হতে পারে। ইতালি ও ইউরোপ তেহরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ১২তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান পরস্পরের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
সংসদে এই সঙ্কট নিয়ে আলোচনার সময় মেলোনি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সঙ্গে রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণের তুলনা করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
দেশটির সিনেটে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এই কাঠামোগত সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে আমাদের ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমেরিকান ও ইসরায়েলি হস্তক্ষেপকে মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় হুমকিগুলো ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতা বহির্ভূত একতরফা হস্তক্ষেপ বাড়ছে।
মেলোনি বলেন, তেহরানের হামলার শিকার উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করছে রোম। তিনি বলেন, এটি শুধু এই কারণে নয় যে তারা ইতালির বন্ধুরাষ্ট্র ও কৌশলগত অংশীদার, বরং ওই অঞ্চলে আমাদের হাজার হাজার ইতালীয় নাগরিক রয়েছেন; যাদের আমাদের রক্ষা করতে হবে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির প্রায় ২ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)