মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

‘বিয়ের আগের শারীরিক সম্পর্ক চরিত্রের কলঙ্ক নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:৮ জুন ২০২৬, ১৯:০০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পারস্পরিক সম্মতিতে অবিবাহিত দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক কোনও ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করার ভিত্তি হতে পারে না। সোমবার ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলেঙ্গানায় এক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিতের সময় এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি মনমোহন এবং মনোজ মিশ্রের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এক প্রার্থীর মামলার শুনানির সময় ওই পর্যবেক্ষণ দেন। ২০১৪ সালে দায়ের করা এক ফৌজদারি মামলার জেরে তেলেঙ্গানা রাজ্য স্তরের পুলিশ নিয়োগ বোর্ড ওই প্রার্থীর ‘স্টাইপেনডিয়ারি ক্যাডেট ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল’ হিসেবে নিয়োগ সাময়িকভাবে বাতিল করেছিল।

ওই প্রার্থীর পরিচিত এক নারীর সঙ্গে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে ওই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে লোক আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। প্রার্থী তার আবেদনপত্রে এই মামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন।

আদালত বলেছেন, পারস্পরিক সম্মতিতে দুই অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক সেই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করার কোনও ভিত্তি হতে পারে না এবং হওয়া উচিত নয়। আইনগতভাবে এমন কোনও নিয়ম নেই; যা দুই অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে তাদের পছন্দের সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধা দেয়।

বেঞ্চ জোর দিয়ে বলেছেন, প্রত্যেক সম্পর্কই বিয়েতে গড়ায় না এবং কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই পরিবর্তনশীল সামাজিক বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। রায়ে বলা হয়, ‌‌‘‘সব সম্পর্ক বিয়েতে রূপ নেয় না। তাই কোনও সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি বলেই এক পক্ষ অন্য পক্ষকে প্রতারণা করেছে; এমন বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই।’’

আদালত বলেছেন, লোক আদালতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের মামলার আপস করার অর্থ এই নয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। কোনও ফৌজদারি মামলা আপসের মাধ্যমে শেষ হয়েছে বলেই নিয়োগকর্তা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না; যদি না এমন কোনও তথ্য-প্রমাণ থাকে; যা নির্দেশ করে অভিযোগকারীকে জোরপূর্বক এই আপসে বাধ্য করা হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে ওই প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল এই যুক্তিতে যে, মামলাটি নৈতিক স্খলনকে প্রতিফলিত করে। তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের একজন একক বিচারকের বেঞ্চ সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন। নিয়োগ বোর্ড পুনরায় নিয়োগ বাতিল করার পর, একক বিচারকের বেঞ্চ আবারও তাকে নিয়োগের আদেশ দেন। তবে একটি ডিভিশন বেঞ্চ সেই আদেশ উল্টে দিলে প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

বিয়ের আগের সম্পর্কের বিষয়ে দেশটির শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, বর্তমানে এই ধরনের সম্পর্ক দিন দিন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠছে এবং যেখানে দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, সেখানে বৈধ সম্মতি ছিল বলেই ধরে নেওয়া হয়।

দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেছেন, প্রার্থী ও অভিযোগকারী প্রতিবেশী ছিলেন এবং তারা কয়েক বছর ধরে একে অপরকে চিনতেন। নথিপত্রে আপস নিশ্চিত করার জন্য বলপ্রয়োগ, হুমকি বা চাপ সৃষ্টি করার কোনও প্রমাণ নেই।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, অভিযোগটি মূলত প্রতারণার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যেখানে প্রতারণার বিষয়টি কেবল অভিযোগকারীর সাক্ষ্যের মাধ্যমেই প্রমাণিত হতে পারত। বেঞ্চ বলেন, অভিযোগকারীকে প্রতারণা করে সম্পর্কে জড়ানো হয়েছিল কি না, তা কেবল অভিযোগকারী নিজেই প্রকাশ করতে পারতেন। সাধারণ মানুষ বলতে পারবে না যে তিনি আপিলকারীর (প্রার্থী) দ্বারা প্রতারিত হয়েছিলেন কি না।

আদালত রায়ে বলেছেন, যেহেতু অভিযোগকারী নিজে মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর মীমাংসায় সম্মতি দিয়েছেন, তাই নিয়োগ বোর্ডের কাছে এই ধারণা করার কোনও ভিত্তি ছিল না যে, পুলিশে চাকরির জন্য নৈতিক সমস্যা রয়েছে ওই প্রার্থীর।

সুপ্রিম কোর্ট নিষ্পত্তি হওয়া ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের জন্য বৃহত্তর নীতিও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আদালত বলেন, নেতিবাচক মতামত কেবল তখনই গঠন করা যেতে পারে, যখন এমন কোনও তথ্য-প্রমাণ থাকে যা নির্দেশ করে, অপরাধটি সংঘটিত হয়েছিল এবং অভিযুক্ত প্রার্থীর সাথে সেই অপরাধের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

সেই মানদণ্ড প্রয়োগ করে বেঞ্চ প্রতারণার অপরাধটি আদৌ সংঘটিত হয়েছিল কি না তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, অভিযোগকারী নিজে এই অভিযোগ নিয়ে আর অগ্রসর হননি এবং প্রতারণা প্রমাণ করার জন্য কোনও সাক্ষ্যও উপস্থাপন করা হয়নি।

শেষে আদালত প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং রায় দেন, এই মামলার তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা সম্ভব নয়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৪৪ - ৫:০৬ ভোর
যোহর ১১:৫৭ - ৪:২৭ দুপুর
আছর ৪:৩৭ - ৬:৩৮ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৩ - ৮:০৫ সন্ধ্যা
এশা ৮:১০ - ৩:৩৯ রাত

মঙ্গলবার ৯ জুন ২০২৬