বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের গোরক্ষপুর জেলায় মায়ের পাশে ঘুমিয়ে থাকা ৯ মাসের শিশুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ১২ বছরের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সেই কিশোর সম্পর্কে শিশুটির মামা।
গত শুক্রবার রাতে ঘটেছে এ ঘটনা। গোরক্ষপুর পুলিশের বরাতে জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার রাতেও মেয়েকে নিজের পাশে নিয়েই ঘুমিয়েছিলেন শিশুর মা। পরে রাত ২টা নাগাদ তিনি খেয়াল করেন, মেয়ে পাশে নেই। রাতেই আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যেরা। শেষে শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি মাঠের মধ্যে টিনের চালাঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে যৌন নির্যাতনের বিষয়ে নিশ্চিত হন চিকিৎসকেরা।
ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। তাতে ১২ বছর বয়সি ওই নাবালক আত্মীয়ের দিকে সন্দেহ যায় তদন্তকারীদের। সে তিন দিন আগেই চণ্ডীগড় থেকে গোরক্ষপুরের ওই বাড়িতে এসেছিল। সেই মতো ওই নাবালককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। রবিবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে তার কথাবার্তাও বেশ অসংলগ্ন লাগছিল পুলিশের। পরে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে পিটিআই জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে পুলিশের কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে নাবালক। পুলিশকে ওই কিশোর জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে সে মদ্যপান করেছিল, তারপর মোবাইলে পর্নও দেখেছিল। পরে রাতে ঘুমন্ত ওই শিশুকে তুলে নিয়ে যায় সে। তার কাছ থেকে পাওয়া মোবাইলটিও খতিয়ে দেখেছে পুলিশ।
গোরক্ষপুর পুলিশসূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরের তাতে ৫০টিরও বেশি আপত্তিকর ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটও ঘাঁটা হত ওই মোবাইল থেকে। গোরক্ষপুরের পুলিশ সুপার নিমেষ পাটিল জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার ওিই শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।