বৃহঃস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেছেন।
এদিন মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিএমপির ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয়।’
অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিওবার্তা নিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওবার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মামলাটির চার্জশিট বুধবারের (৭ জানুয়ারি) মধ্যে দেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান।
এদিন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার হাদি হত্যা মামলা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে- মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হচ্ছেন- মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন ডিও, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং আব্দুল হান্নান।
পুলিশ জানিয়েছে, হাদির হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখ পালিয়ে গেছে। তদন্তকালে পুলিশ দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল, জাল নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে, যদিও তদন্তের স্বার্থে সবার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পল্টন থানার বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাকে শাহবাগে জাতীয় কবির কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)