শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২
ফাইল ছবি
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত নেতার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আগামী ১৮ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য হলেন– জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলায় অভিযুক্ত সাত আসামিরই আজ আত্মসমর্পণের দিন ধার্য ছিল। তবে তারা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের পলাতক বিবেচনা করা হয়। এরপর প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন আদালত। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য যে ছয়জন সরকারি খরচে আইনজীবী পাচ্ছেন, তারা হলেন– আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর এই সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২। প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যার নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানির অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তীতে ২৯ ডিসেম্বর তাদের হাজির হওয়ার দিন ধার্য থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর আদালত তাদের হাজির হতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং শুনানির জন্য আজকের দিনটি ঠিক করেন। শেষ পর্যন্ত তারা উপস্থিত না হওয়ায় বিধি অনুযায়ী স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)