রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
কীভাবে শ্বাস নেন? এই প্রশ্ন করলে অবশ্যই উত্তরে যেকেউ বলবে, নাক দিয়ে। কিন্তু আসলেই কি সবাই নাক দিয়েই শ্বাস নেন? না। অনেকেই হাঁপিয়ে গেলে কিংবা ঘুমানোর সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। আবার ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে গেলেও ঠোঁট আলগা করে শ্বাস নেন অনেকেই। কিন্তু এই অভ্যাস কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? না কি ক্ষতির কারণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস মোটেও স্বাভাবিক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। আপনি কি জানেন, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে কী হতে পারে? চলুন জেনে নিই-
ঘুমের সমস্যা
ঘুমানোর সময় অনেকেই জোরে নাক ডাকেন। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে টনসিল বড় হয়ে যেতে পারে। শুরু হয় নাক ডাকা। ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে এই অভ্যাসে।
মাড়ির সমস্যা
মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে শুকিয়ে যায় মুখের মাড়ি ও টিস্যু। ফলে মুখের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়। বেড়ে যায় মাড়ির রোগ ও দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকি।
ফুসফুসের সমস্যা
মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, যা ফুসফুসের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেড়ে যায় এই অভ্যাসে।
চোখ ঝুলে যাওয়া
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে চোখের চারপাশের শিরা প্রসারিত হয়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকার কারণে চোখ ঝুলে যেতে পারে। ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগের কারণও এই অভ্যাস।
ফ্লু ও সর্দি-কাশি
নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম সিলিয়া জীবাণু ছেঁকে দেয়। কিন্তু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে জীবাণু সরাসরি গলায় পৌঁছে যায়। ফলে বেড়ে যায় সর্দি, সাইনাসের সংক্রমণ, জ্বর ও অ্যালার্জির ঝুঁকি।
শিশুদের ওপর প্রভাব
শিশুদের ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে চোয়াল নিচের দিকে বেড়ে যাওয়া, দাঁত বেঁকে যাওয়া, লং ফেস সিনড্রোম, ওপরের ঠোঁট বেরিয়ে থাকা এবং নাক ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
করণীয় কী?
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া অনেক সময় শরীরের বড় কোন রোগের লক্ষণ হতে পারে। সর্দি বা নাক বন্ধ থাকলে সাময়িকভাবে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অন্য সময়েও যদি এই অভ্যাস থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশেষ করে যদি সবসময় মুখ শুকনো থাকা, সারাদিন মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া, মানসিকভাবে ক্লান্ত লাগে তাহলে সতর্ক হতে হবে। নিয়মিত নাক ডাকা বা লালা ঝরার সমস্যাকে এড়িয়ে যাবেন না। ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত ও বিরক্ত বোধ করাও স্বাভাবিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যাগুলো চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)