রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২
ছবি-সংগৃহীত
শীতের কুয়াশা ভেদ করে কয়েকদিন আলো দেখায়নি সূর্য। চারপাশে হিমশীতল পরিবেশ বিরাজমান ছিল। কিন্তু সূর্যের এই অনুপস্থিতি কি প্রভাব ফেলেছে আপনার মনেও? কেমন যেন একটা খারাপ লাগা ছিল চারপাশ জুড়ে। কোনো কাজে আগ্রহও মিলছিল না। সূর্যের সঙ্গে কি আসলেই মনের সম্পর্ক রয়েছে?
শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের জন্য সূর্যালোক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। সূর্যালোক থেকে আমরা কেবল উষ্ণতাই পাই না, বরং মস্তিষ্কের নানা হরমোন ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ওপর তার সরাসরি প্রভাব আছে। বিশেষত শীতকালে, মেঘলা দিনে কিংবা যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতর থাকেন— তাদের মধ্যে সূর্যালোকের অভাবে নানা মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সূর্যের আলোর অভাব শরীরে কী কী প্রভাব ফেলে? চলুন বিস্তারিত জেনে নিই-
হতাশ লাগে
সূর্যালোকের ঘাটতি সেরোটোনিন নামক ‘হ্যাপিনেস হরমোন’-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। সেরোটোনিনের কাজ হলো মুড ভালো রাখা, ইতিবাচক চিন্তা বাড়ানো এবং উদ্বেগ কমানো। যখন সূর্যের আলো কম মেলে, তখন শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় নীচে নেমে যায়। ফলে বেড়ে যায় মন খারাপ, হতাশা এবং উদাসীনতা।
ঘুমে ব্যাঘাত
সূর্যালোকের অভাব ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। আমাদের শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম মূলত আলো-অন্ধকারের ওপর নির্ভর করে। দিনে সূর্যালোক চোখের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছালে মেলাটোনিন নামক ঘুমের হরমোনের উৎপাদন কমে যায়, আর রাতে অন্ধকারে তা বেড়ে ঘুম বাড়ে। কিন্তু যারা দিনের বেলায় পর্যাপ্ত আলো পান না, তাদের মেলাটোনিনের উৎপাদন বিভ্রান্ত হয়ে যায়। ফলে ঘুমের সমস্যা, রাতে দেরী পর্যন্ত জেগে থাকা, দিনে ক্লান্তি—এসব দেখা দিতে পারে।
ক্লান্ত লাগা
সূর্যালোকের অভাবে Seasonal Affective Disorder (SAD) নামের বিশেষ ধরনের হতাশার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি মূলত ঋতুভেদে ঘটে। বিশেষ করে শীতকালে যখন সূর্যালোক কম পাওয়া যায় তখন কিছু মানুষের মধ্যে এই হতাশা দেখা দেয়। এসময় অকারণে দুঃখবোধ, শক্তির অভাব, বেশি ঘুম, অতিরিক্ত খাওয়া (বিশেষ করে মিষ্টি) এবং কাজে মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়।
ভিটামিন ডি-এর অভাব
শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে সূর্যালোক, যা শুধু হাড় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্যই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। ভিটামিন ডি-এর অভাব অনেক সময় উদ্বেগ, ক্লান্তি ও মনমেজাজ খারাপের কারণ হতে পারে।
মাঝেমধ্যে অকারণে মন খারাপ লাগে কেন?
পারিপার্শ্বিক চাপে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত? চাপমুক্ত থাকার উপায় জানুন
রোদ পোহানোর উত্তম সময়
এসব সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন অন্তত ১৫–২০ মিনিট সূর্যালোকে থাকা জরুরি। সকালে হাঁটা, বারান্দায় বসা বা ঘরের জানালা খুলে আলো প্রবেশ করানো— সহজ কিছু অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূর্যের আলো কেবল শরীর নয়, মনেরও থেরাপি। তাই সূর্যালোকের কাছাকাছি অন্তত কিছুটা সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)