বৃহঃস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১
ছবি সংগৃহীত
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে গেল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দল। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে ইসির স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে সেই লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশে ইইউ-এর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে সিইসি বলেন, নির্বাচনের পথে যত ধরনের সহায়তা দরকার তা আমরা নিশ্চিত করেছি; তবে সংস্কারের জন্য সময়টা একটু কম হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে ইইউ। তারা সংস্কারের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটা তাদের সাজেশন।
তিনি আরও বলেন, ভোট কবে হবে সেভাবে আলোচনা হয়নি। তারা তো জানেন, হয় ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে। আমি তো এর বাইরে কিছু বলতে পারব না।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, তারা আসলে জানতে চেয়েছেন, ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশনের (গণতান্ত্রিক রূপান্তর) জন্য যে নির্বাচন হবে, তার জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত? কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি? ভোটার রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার জন্য টাইমলাইন কি রকম হবে; অর্থাৎ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা বলেছেন, বাংলাদেশে এ অগ্রযাত্রায় তারা সাহায্য করতে প্রস্তুত। সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। তারা চান একটা ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন হোক এবং এটা হলে এই পথে যত ধরনের সহায়তা দরকার; তারা তা নিশ্চিত করবেন। তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন এ প্রক্রিয়ায়।
ইসিকে সহায়তার বিষয়ে সিইসি বলেন, আমাদের কোথায় কোথায় সহায়তা দরকার তার ‘নিড অ্যাসেসমেন্ট’ (কী কী প্রয়োজন তা মূল্যায়ন) করতে লোক পাঠাবেন। কোথায় সাহায্য করতে পারেন, দেখবেন। তারপর জানাবেন। তাদের মিশন আসবে। তারপর নির্বাচন হলে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা অনুরোধ করলে, তারা প্রতিনিধি পাঠাবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার বিষয়ে আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি। কারণ, আমরা তো সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য। আমরা বলেছি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমাদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। তারা খুশি হয়েছেন। আমরা যে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি এটা তারা মূল্যায়ন করতে পেরেছেন, উপলব্ধি করতে পেরেছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের সুপারিশের বিষয়ে কমিশন ইসির স্বাধীনতার বিষয়ে জোর দিয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, আমাদের মতামত আমরা দিয়েছি। একটা বিষয় আমি জোর দিয়ে বলেছি, আপনাদেরও বলছি যে, ইসির যে স্বাধীনতা সংবিধান দিয়েছে, সেটা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। এটাই আসল কথা।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইসির কোনো স্বাধীনতা কম্প্রোমাইজ হোক—এটা চাই না। তারাও জানিয়েছেন, এটার প্রশংসা তারা করেছেন। তারা বিশ্বাস করেন, ইসির স্বাধীনতা থাকতে হবে। তা না হলে জাতি ইসির কাছে যা প্রত্যাশা করেছে তা দিতে পারবে না।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, সিইসির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। আমরা বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন সম্পর্কে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানার জন্য এসেছিলাম। আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এখানে সহায়তার বার্তা নিয়ে এসেছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছ নির্বাচন, ইসিকে কী সহায়তা করতে পারে ইইউ, সিইসির কাছে সেটাও জানতে চেয়েছি।
ইইউ প্রতিনিধিদের বৈঠকে আলোচ্যসূচি ছিল— নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সংস্কার ও অগ্রাধিকার, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নির্বাচনী সময়সীমা, নির্বাচনী প্রশাসন, ভোটার নিবন্ধন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, নির্বাচনী প্রযুক্তি, প্রচার ও ব্যয়, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সহায়তা।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)