বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২


নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অপসারণসহ ৮ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৫০

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম। একই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট, বিশেষত রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের সদস্য-সচিব ও সরকারের সাবেক সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন ক্যাডারসহ সরকারের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। অতীতে টানা তিনটি নির্বাচন ব্যর্থ ও বিতর্কিত হওয়ায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।’

ড. শরিফুল আলম বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু প্রার্থিতা বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা যাচ্ছে, যা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রার্থিতা বাছাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপেই যদি নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হয়ে পড়বে। অতীতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা হারানোর সুযোগে প্রভাবশালী দল ও প্রার্থীরা প্রশাসনকে প্রভাবিত করেছে-এমন উদাহরণও রয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। টেকনিক্যাল ব্যাখ্যার আড়ালে প্রার্থিতা বাতিল রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তাই প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খোলা মন ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করা জরুরি। অতীতের অগণতান্ত্রিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলার বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের ৮ দফা দাবিগুলো হলো

১. নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি।

২. নির্বাচনি আইন প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ও পক্ষপাতহীন ভূমিকা।

৩. ভোট কারচুপি ও অনিয়ম রোধে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন।

৪. নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার জন্য স্বতন্ত্র গাইডলাইন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রকাশ।

৫. অভিযোগ উঠলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদোন্নতিতে প্রভাব বা চাকরিচ্যুতি।

৬. নির্বাচন কমিশন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ বক্স স্থাপন এবং নিয়মিত ব্রিফিং।

৭. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, বিশেষ সহকারী ও চুক্তিভিত্তিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যে তারা পরবর্তী সরকারের অংশ হবেন না।

৮. নির্বাচন শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে অন্যত্র বদলি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, সাবেক সচিব মোতাহার হোসেন, রেজাউল করিম এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল কাইয়ুম।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ০৫:১১ ভোর
যোহর ১১:৫৩ দুপুর
আছর ০৩:৩৮ বিকেল
মাগরিব ০৫:১৭ সন্ধ্যা
এশা ০৬:৩৪ রাত

বুধবার ৭ জানুয়ারী ২০২৬