রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই গণতন্ত্র সমুন্নত থাকবে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মায়ের দেখানো পথ ধরেই তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) শেরে বাংলা নগরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যে আদর্শ ও নৈতিকতা নিয়ে জনগণের কাছে অঙ্গীকার দিয়েছিলেন; তার রেখে যাওয়া সেই আদর্শের পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে যাবে, বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠন এবং এদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি এগিয়ে যাবে। তার দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে গেলেই আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পারব, আমরা দেশের পতাকাকে ধরে রাখতে পারব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ধরে রাখতে পারব। সুতরাং তিনি যে প্রেরণা থেকে অনেক যন্ত্রণা ও অত্যাচার সহ্য করে আমাদের পতাকাকে উড্ডীন রেখেছিলেন সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ পুত্র দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে পতাকা হাতে নিয়েছেন; তার মায়ের প্রদর্শিত পথ ধরে এই দেশকে নতুন সম্ভাবনার দিগন্তের দিকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমরা সেই দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাব; যার জন্য প্রায় ৪৫/৪৬ বছর ধরে নিরন্তর লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।
সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের নেতত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে শেরে বাংলা নগরে বেগম খালেদা জিয়ার কবরে যান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে নেত্রীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতের অংশ নেন নেতা-কর্মীরা।
আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নির্যাতন-নিপীড়ন করা, চিকিৎসা না দেওয়া কিংবা ভুল চিকিৎসা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার অশুভ চক্রান্ত করা হয়েছে। কিন্তু তার যে অটুট মনোবল, ধৈর্য, আত্মসংযম, সাহস, দৃঢ় প্রত্যয় যেকোনো হুমকির মুখে তাকে তার মাটি থেকে সরানো যায় না তার জ্বলন্ত এক প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমরা তাকে হারিয়েছি, বাংলাদেশ এই ইস্পাত কঠিন এবং জনগণের একান্ত পক্ষের মানুষ জনগণের নেত্রী তাকে আমরা হারিয়েছি। আজ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এখানে দোয়া করেছে তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য। গোটা জাতি যেখানে কাঁদছে, গোটা জাতির চোখ দিয়ে যখন অশ্রু ঝরছে; তখন আমরা আর কী বলব? পরশুদিন সারা ঢাকা শহর মানুষের জনস্রোত জানাজায় আসার যে দৃশ্য আমরা দেখেছি এটি তো অভূতপূর্ব। আল্লাহ তাকে মহিমান্বিত করেছেন, গৌরবান্বিত করেছেন জনগণের নেত্রী, গণতন্ত্রের নেত্রী, মানব কল্যাণের নেত্রীকে।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে কত কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কত ধরনের নোংরা কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি আত্মসংযমের মাধ্যমে সুরুচিপূর্ণ কথার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন যারা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে তারা জনগণের দ্বারা ধিকৃত হয়; আর যারা সৌজন্যবোধ প্রিয়, যারা হাজার আক্রমণের মুখেও, হাজার বাজে কথা বলার পরেও একটি মাত্র খারাপ শব্দ, বাজে শব্দ উচ্চারণ করে না তাকেই আল্লাহ মহিমান্বিত করেন। আজকে দেখুন পরশুদিন থেকে জনতার ঢাল নেমেছে এই কবর প্রাঙ্গণে। সারা বাংলাদেশের মানুষ আসছে, দোয়া করছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)