সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২
ছবি-সংগৃহীত
পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সংগঠনটি বলছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এমন যথেচ্ছাচার-আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার-চর্চার পথকে সংকীর্ণ করতে পারে। খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে নাগরিক অবস্থানে হামলাকারীদের অতিদ্রুত যথাযথ আইনের আওতায় এনে ঘটনার ব্যাখ্যা তলব পূর্বক জনতার সামনে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর হামলা-রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও নাগরিকদের ভেতর ভীতিসঞ্চারের উদ্দেশ্যেই এমন ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার অবতারণা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন হত্যার সঙ্গে জড়িত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ব্যর্থতা আড়াল ও ঘটনার মোড় অন্যদিকে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চ মনে করে, পঞ্চগড়ে সেনাবাহিনীর এই হামলা ওই ঘটনারই ধারাবাহিকতা।
উল্লেখ্য, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা শহরের শেরে বাংলা পার্ক মোড়ে বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীদের আয়োজনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে সেনা সদস্যদের লাঠিচার্জের ঘটনায় অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আমাদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। আমরা কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেছি। আকস্মিক সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের উপর হামলা ও লাঠিচার্জ করেন। এ সময় আমাদের ২০-২৫ আহত হন। আমিসহ ২৩ জন আপাতত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আমরা এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর বলেন, ২৩ থেকে ২৫ জনের মত আহত রোগী এসেছেন। এখন পর্যন্ত ২৩ জন ভর্তি হয়েছে। তারা শক্ত কিছুর আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগের ব্লান্ড ইনজুরি রয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। কয়েকজনকে অবজারভেশনে রেখেছি।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)