বৃহঃস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
প্রতীকী ছবি
ইতিকাফকারীর জন্য মসজিদের ভেতর সিগারেট, বিড়ি কিংবা হুক্কা পান করা জায়েজ নেই। ইসলামী চিন্তাবিদদের দৃষ্টিতে এটি একটি নিন্দনীয় কাজ। ইতিকাফ একটি বিশেষ ইবাদতের মুহূর্ত। এই সময় সব ধরনের অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। ধূমপানকে স্বাভাবিক সময়েও জায়েজ বলেন না আলেমরা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন বা এই জাতীয় দুর্গন্ধযুক্ত কোনো কিছু খেয়ে মসজিদে আসতে নিষেধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে—
হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এই উদ্ভিদ (রসুন) খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের কাছেও না আসে যতক্ষণ না তার মুখ থেকে দুর্গন্ধ চলে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩৬)
মনে রাখতে হবে মসজিদ একটি পবিত্র স্থান। যেহেতু সিগারেটের গন্ধে অন্যের কষ্ট হয় এবং এটি একটি দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু, তাই ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদের ভেতর এটি পান করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান করা জায়েজ নয়। কারণ, এতে মানুষের জীবন ও সম্পদ উভয়টির ক্ষতি হয়ে থাকে। আর জেনে শুনে নিজের জান-মালের ক্ষতি করা গুনাহ। এছাড়া ইসলাম ক্ষতিকর বিষয় থেকে দূরে থাকার আদেশ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)
ধূমপানের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিকের প্রতি খেয়াল রেখে আলেমরা ধূমপান করাকে মাকরুহ বলে থাকেন।
ইতিকাফ একটি পবিত্র আমল। এই আমলের সময় মানুষ নিজেকে পার্থিব সব ব্যস্ততা থেকে মুক্ত রেখে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন। নিজেকে রবের কাছে সঁপে দেন। একজন মুসলিমকে পার্থিব সব ঝামেলা মুক্ত করে আল্লাহর ইবাদতে কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ করে দেয় ইতিকাফ। এমন মুহূর্ত এ জাতীয় অনর্থক কাজে নষ্ট না করে ইবাদতে মনোযোগী হওয়া উচিত প্রত্যেকের।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)