বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ক্রীড়া আসরকে ঘিরে যখন স্টেডিয়াম, নিরাপত্তা ও অবকাঠামো প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজক দেশগুলো, তখন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে মেক্সিকো।
দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে যৌনবাহিত রোগ (এইচআইভি) প্রতিরোধে ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এই কর্মসূচি মূলত মেক্সিকোর তিনটি স্বাগতিক শহর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মনতেরেকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে। এছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, কনডম বিতরণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মধ্যে এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতামূলক তথ্যপত্রও বিতরণ করা হবে। বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং ভক্তদের সমাগমস্থলে বিশেষ বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন ‘ওয়ার্ল্ড কাপ হেলথ অপারেশনস কমান্ড’-এর সদস্য রক্সানা ত্রেখো স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমাদের দেশে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিমানবন্দর ও আগমনকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ সেবা পয়েন্ট তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে কনডমের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কিত তথ্যও দেওয়া হবে। কারণ তথ্য ছাড়া কনডম বিতরণ করা মানে শুধু পকেটে একটি মিষ্টি রেখে দেওয়ার মতো।'
বিশ্বের বড় ক্রীড়া আসরগুলোতে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি নতুন নয়। তবে বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা কনডম বিতরণের কোনো ঐতিহ্য নেই। কারণ অলিম্পিকের মতো এখানে কোনো কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটস ভিলেজ থাকে না; বিভিন্ন দেশের ফুটবলাররা পৃথক হোটেল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করেন।
অন্যদিকে অলিম্পিকে কনডম বিতরণ বহু বছরের প্রচলিত রীতি। সর্বশেষ প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে প্রায় ৩ লাখ কনডম বিতরণ করা হয়েছিল, যা ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিক থেকে শুরু হওয়া একটি জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের ধারাবাহিকতা।