রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
ছবি সংগৃহীত
এক সময় দুনিয়ার সবচেয়ে রহস্যময় জিনিসগুলোর একটি ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের স্লোয়ার কাটার! যে ফাঁদে পড়ে বোকা বনে যেতেন বাঘাবাঘা সব ব্যাটার। বাঁহাতি পেসারের এই অস্ত্র ক্রিকেট পাড়ায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে ধার হারিয়েছেন ফিজ।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মুস্তাফিজের কাটার যতটা ভয়ঙ্কর ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল তার ইংলিশ-ভীতি! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ নিয়ে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি তাকে। তবে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছিলেন বাঁহাতি এই পেসার।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) একাধিক দেশের ক্রিকেটার খেলেন। কোচও অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি থাকেন। ফলে এখানে ইংরেজিই যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠে। ২০১৬ সালের আইপিএলে সানরাইজার্স হয়দরাবাদের হয়ে খেলেছিলেন মুস্তাফিজ। সেই দলের কোচ ছিলেন টম মুডি।
মুস্তাফিজ ইংরেজি না জানায় তখন বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন কোচও। সম্প্রতি ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তখনকার সেই পরিস্থিতি বর্ণণা করতে গিয়ে মুডি বলেন, ‘প্রথম দিকে ওকে নিয়ে সত্যিই সমস্যায় পড়েছিলাম।’
শুধু কোচ নন, মাঠে মুস্তাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারেরও। ইশারা-ইঙ্গিতে ফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন ওয়ার্নার। একবার ওয়ার্নার এই পেসারকে বুঝাতে চেয়েছিলেন, মাথা খাটিয়ে বল করো। কিন্তু তিনি ভেবেছিলেন ব্যাটসম্যানের মাথা লক্ষ্য করে বল করতে বলা হয়েছে। ফলে তখন বাউন্সার করেন মুস্তাফিজ।
এ নিয়ে মুডি বলেন, ‘এই জায়গায় সতর্ক থাকতে হয়। আপনি ভাবছেন আপনি যা বোঝাতে চাচ্ছেন সেটা পরিষ্কার, কিন্তু খেলোয়াড়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তা নিচ্ছে। এটা আইপিএলের এক বিশেষ দিক, যা যোগাযোগের সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে। নিজের দেশের কারও সঙ্গে রসিকতা বা ব্যঙ্গ করা যতটা সহজ, এখানে তা নয়।’
সেই আসরে মুস্তাফিজ ভাষার চ্যালেঞ্জ জয় করেছিলেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। ১৬ ম্যাচে শিকার করেছিলেন ১৭ উইকেট। তার এমন পারফরম্যান্সে হায়দরাবাদ জিতেছিল শিরোপ। আর তাতে বড় অবদান রাখায় মুস্তাফিজ হয়েছিলেন উদীয়মান ক্রিকেটার।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)