বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
মিরপুর টেস্ট জেতার পর সিলেটও দাপুটে পারফরম্যান্স ধরে রাখল বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। তাতেই হয়েছে ইতিহাস। ঘরের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে এবারই প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ।
সিলেট টেস্টের পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট করছে নেমেছে পাকিস্তান। অষ্টম উইকেটে পঞ্চাশের বেশি রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান ও সাজিদ। তখনই জয়ের স্বপ্নও দেখছিল সফরকারীরা। এবার সেই জুটি ভাঙলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
৪৩৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৭ রান করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র তিন উইকেট। অন্যদিকে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২০ রান।
পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মিদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। নাহিদ রানার করা বলে স্লিপে ক্যাচও তুলে দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু হাতের ক্যাচ মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এই সুযোগ মিস করার পর বাংলাদেশিদের ভোগাতে থাকেন রিজওয়ান ও সাজিদ খান। এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে জয়ের স্বপ্নও দেখতে থাকে পাকিস্তানিরা। কিন্তু সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করার মাধ্যমে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে পাহাড়সম লক্ষ্য মাথায় নিয়ে গতকাল চতুর্থ ইনিংস শুরু করেছিল পাকিস্তান। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মনে হচ্ছিল, চতুর্থ দিনেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে টাইগাররা। তবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা দুই জন মিলে গড়েন ১৩৪ রানের জুটি। যে জুটি কিছুটা হলেও ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিল টাইগার শিবিরে।
তবে শেষ বিকালে তাইজুল সেই ভয় দূর করে এনে দেন স্বস্তি। তীব্র গরমেও এই টাইগার স্পিনারের ঘূর্ণিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন টাইগার সমর্থকরা। ফলে চতুর্থ দিনে টাইগারদের জয় কেবলই ছিলো সময়ের অপেক্ষা। পঞ্চম দিনের শুরুতে হলোও তা, টাইগার বোলারদের তোপে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
তাতে ৭৮ রানের জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। অর্থাৎ পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালো টাইগাররা। তাতেই হয়েছে ইতিহাস। ঘরের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে এবার প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে ছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের দেওয়া ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে তাদের তখনও দরকার ছিল ১২১ রান। অন্যদিকে টাইগারদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র তিনটি উইকেট।
দিনের শুরুতে অপরাজিত থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান ব্যাট হাতে নেমে দ্রুতই জুটি বাঁধেন। দুজন মিলে ৫০ রানের বেশি যোগ করে দলকে এগিয়ে নেন। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, পাকিস্তান হয়তো অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলবে।
তবে দিনের শুরুতেই একটি বড় সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। নাহিদ রানার বলে রিজওয়ান স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ সেই ক্যাচ ধরতে পারেননি। এই মিসের পর রিজওয়ান-সাজিদ জুটি আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত সেই জুটির অবসান ঘটান তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন তিনি। আউট হওয়ার আগে সাজিদ ৩৬ বলে ২৮ রান করেন। এই উইকেট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাইজুল পূর্ণ করেন ফাইফার। সাজিদ আউটের পর উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রিজওয়ানও।
শরিফুলের বলে স্লিপে ক্যাচ শতক মিছের আক্ষেপ নিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। যাওয়ার আগে ৯৪ রান করেন তিনি। আর তাইজুল শেষ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ৭৮ রানের জয় নিশ্চিত করে। তাতে ঘরের মাঠে প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন তাইজুল।