শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
ছবি সংগৃহিত
‘বিডিআরের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের আর মাত্র তিন মাস বাকি ছিল আমার বাবার। আমি তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। আর এখন আমি দুই সন্তানের জননী। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বাবার জন্য অপেক্ষা করছি। কী দোষ ছিল আমার বাবার? আমার বাবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়নি বলেই কি তাকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে? মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় কি ছিল তার অপরাধ? আমি স্বাধীন তদন্ত কমিশনকে বলব যেন দ্রুত আমার বাবাসহ নির্দোষ সকল বিডিআরকে মুক্তি দেওয়া হয় ৷’
ঠাকুরগাঁওয়ে তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলবন্দি বিডিআরদের পরিবারের সদস্যরা। রোববার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অশ্রুসিক্ত চোখে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলবন্দি বিডিআর সদস্য আক্তার আলীর মেয়ে আফরিন আক্তার।
এ সময় মানববন্ধনে কাঁদছিলেন এক বৃদ্ধা। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার সন্তান জয়দেবের মুক্তি চাই। তার চাকরি ফেরত চাই।
মানবন্ধনে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি চন্দন বিডিআরের বোন মুক্তি রানি বলছি। আমার ভাইটাকে কবে ফেরত পাব? আমার ভাইয়ের ছেলে শ্রাবণ বুঝতে শেখার পর থেকে তার বাবাকে খুঁজছে। কেন তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না? তাদের নিয়ে কি নতুন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে? আমরা খুব আশা নিয়ে আছি ফ্যাসিস্ট সরকার চলে যাওয়ায় এই সরকার তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেবে।’
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার পিলখানাসহ সারা দেশে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যের পুনর্বাসনপূর্বক চাকরিতে পুনর্বহাল; ১৬ বছর যাবত জেলবন্দি সকল নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের জেল থেকে মুক্তি; স্বাধীন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সত্য উদ্ঘাটন ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আসে মানববন্ধন থেকে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)