মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের কৃষকদের কল্যাণে আজ পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই কৃষক কার্ড পাওয়ার আনন্দে টাঙ্গাইলে কৃষকদের মাঝে চলছে আনন্দ উল্লাস ও খুশির জোয়ার।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানস্থলে থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
জানা গেছে, সারাদেশের প্রি-পাইলটিং হিসেবে ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে কৃষকদের মাঝে ৩৫ হাজার কৃষক কার্ড প্রাথমিকভাবে বিতরণ করা হবে। তারই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ ব্লকে ১৪৫৩ জন কৃষকের মাঝে এই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের মধ্যে থেকে ১৫ জন কৃষককে নিজ হাতে এই কার্ড তুলে দেবেন। আর সরকারি প্রণোদনার অর্থ কৃষকরা তাদের কার্ডে পেয়ে যাবেন এবং সারাদেশেও এ কার্ড বিতরণ করা হবে।
টাঙ্গাইলে যে ১৫ জন প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে কৃষক কার্ড পাচ্ছেন, তারা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবু কায়সার, মো. রোমান, উপজেলার সুরুজ পূর্বপাড়া গ্রামের শাহানুর আলম, মো. শাহ আলম, জুলেখা আক্তার, আমেনা বেগম, মোহাম্মদ আলী, শামীমা আক্তার, লায়লা বেগম, তাহমিনা, উপজেলার উত্তর তারুটিয়া নাছিমা খানম সুমনা, শিল্পী, কবির হোসেন, উপজেলার নিয়োগী জোয়াইর মো. নবাব আলী ও মোছা. মনোয়ারা আক্তার।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষি কার্ড নেবেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবু কায়সার। তিনি বলেন, এই সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল যে আমাদের কৃষি কার্ড করে দেবে। সরকার তা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে, আমরা কৃষি কার্ড পাচ্ছি। আমরা কৃষক ছিলাম, আমাদের কোনো মূল্য ছিল না। এখন আমরা এদেশের একজন গর্বিত কৃষক। এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সব সুযোগ-সুবিধা পাব। কৃষক কার্ড পাওয়া আনন্দের বিষয়। এইজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী তিনি তার কথা রেখেছেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ পূর্বপাড়া গ্রামের শাহানুর আলম বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর তার হাত থেকে কৃষি কার্ড পাব, এর চেয়ে সৌভাগ্যের কিছু হতে পারে না। আমি খুবই আনন্দিত, প্রধানমন্ত্রী তিনি নিজে আমাদের হাতে কার্ড তুলে দেবেন। আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। কৃষি কার্ড দিয়ে আমরা কৃষকরা সব সুযোগ-সুবিধা পাব। এতে আমাদের কৃষি এগিয়ে যাবে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রণোদনা পাব। এই প্রণোদনার টাকা দিয়ে আমাদের জমির সার, কীটনাশক ক্রয় করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো কৃষক, আমাদের কোনো সংগঠন নাই। আমাদের কোনো দল নাই। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমার একটি পরিচয় নিশ্চিত হলো। আমি দেশের একজন কৃষক। এই বিষয়টি আমার খুবই ভালো লেগেছে।
এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য ও অধিকার পান, এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পাইলটিং ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)