সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীতে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে ডাহা মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে।
সোমবার (১৮ মে) টাইগারপাসে অবস্থিত চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র এ কথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য তিনি কখনো কোনো নির্দেশ দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিভিন্ন পিলার ও দেয়াল থেকে পোস্টার-ব্যানার অপসারণ ও রং করার কাজ করে থাকে। টাইগারপাসসহ যেসব স্থানে রং করা হয়েছে, সেখানে মূলত পোস্টার দিয়ে ঢাকা ছিল এবং দৃশ্যমান কোনো গ্রাফিতি ছিল না।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের চেতনার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি নিজে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমারই অনুসারী ছিল।
মেয়র বলেন, কেউ গ্রাফিতি করতে চাইলে আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শৈল্পিক ও মানসম্মত গ্রাফিতি আঁকতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অর্থায়নের আশ্বাসও দেন।
তিনি বলেন, অপরিচ্ছন্ন হাতের লেখার চেয়ে পরিকল্পিত ও শৈল্পিক গ্রাফিতি শহরের সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি রক্ষা করবে।
আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, ৪ আগস্ট যখন অনেক হাসপাতাল আহতদের নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে ট্রিটমেন্ট ও হলি হেলথ হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করান। এছাড়া ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। শহীদ পরিবারগুলোকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এনসিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটা ফায়দা লুটার জন্য এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্যই তারা এই কাজ করছে।
নিজের মেয়াদের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে আইনগতভাবে তিনি বৈধ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে তিনি দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের দাবি জানান।