মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১১ সদস্যের ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। সোমবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নবগঠিত এই কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে রোহিঙ্গাদের নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। সংগঠনটি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
এক বিবৃতিতে ইউসিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ইউসিআর বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে তারা গঠনমূলকভাবে কাজ করতে চায়। তাদের মতে, টেকসই প্রত্যাবাসন কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে শরণার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিবৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসায় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
সংগঠনটি আশা করছে, প্রণীত জাতীয় কৌশলে রোহিঙ্গাদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে এবং রাখাইন রাজ্যে তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পথ সুগম হবে।
ইউসিআর বলছে, রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের নয়, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও একটি যৌথ দায়িত্ব। তাই বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগকে সফল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ইউসিআর সংগঠক মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, ক্যাম্পে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। মানবিক আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের নতুন এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।
৯০ দিনের মধ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল তৈরির জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতা ও গুরুত্বের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।
যেখানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) প্রধান সমন্বয়ক ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক।
কমিটিকে সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে পাঁচ কর্মকর্তাকে। তারা হলেন—শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তঃসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্থাগুলোর কার্যপরিধি ও ক্ষেত্র নির্ধারণের দায়িত্বও পালন করবে।
মন্ত্রীপরিষদের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য সদস্য সচিব একটি পর্ষদ গঠন করবেন। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণসহ রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল’ প্রণয়ন করবে। আগামী তিন মাসের (৯০ দিন) মধ্যে এই কর্মকৌশল প্রণয়ন করে কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে।