বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় গতকালও রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন বাবা-মা ও এলাকাবাসী। দাবি ছিল—নিখোঁজ ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে এক দিন পরই মিলল কলির মরদেহ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার ও স্বজনদের দাবি, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় জিডি করা হলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে পুলিশের দাবি, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। থানা পুলিশের বিন্দুমাত্র গাফলতি নেই।
নিহত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কলুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল প্রামানিকের মেয়ে। সে স্থানীয় আল-ফালাহ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
মেয়ের মরদেহ পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কলির বাবা কামাল প্রামানিক ও মা মোছা. বিউটি আক্তার। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। যে মেয়েটিকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় গত সাত দিন ধরে অপেক্ষা করছিল পরিবার, সেই মেয়েকেই শেষ পর্যন্ত নিথর অবস্থায় বস্তাবন্দি দেখতে হলো তাদের। কলির মরদেহ দেখতে বাড়িতে ভিড় করেছেন এলাকাবাসী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে গিয়েছিল কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে মায়ের হাতে বাজারের ব্যাগ তুলে দেয় সে। এরপর বাড়ির পাশেই যায়। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও আর বাড়িতে ফেরেনি। মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বাড়ি, প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে পাওয়া যায় কলির পরিহিত স্যান্ডেল। এরপর পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।
এদিকে সাত দিন ধরে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় একের পর এক জায়গায় খোঁজ চালিয়েছেন স্বজনরা। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি তাকে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কলিকে উদ্ধারের দাবিতে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান তারা। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। কিন্তু তাদের সেই দাবির পরদিনই আসে হৃদয়বিদারক খবর। বুধবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ির পেছন থেকে কলির মরদেহ পাওয়া যায়।
পরিবার ও স্বজনদের দাবি, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় জিডি করা হলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কলিকে উদ্ধারে পুলিশের তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি।
নিহত শিশু কলির বাবা কামাল প্রামানিক বলেন, প্রশাসনের কাছে আমি পাঁচ দিন ঘুরেছি, প্রশাসন আমাকে কোনো সময় দেয় নাই। প্রশাসন কোনো গুরুত্ব দেয় নাই। পুলিশ মাঠে না নেমে আমার বাসায় এসে ঘুরে চলে যেত। গতকাল মানববন্ধন করার পর রাত ১২টায় থানায় মামলা এন্টি করাই। পরের দিন সকালবেলায় আমার মেয়ের লাশ দেখতে পাই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই।
কলির মা মোছা. বিউটি আক্তার বলেন, আমার মেয়ে নিখোঁজের পর থেকেই আমি ফেসবুকের মাধ্যমে আমার মেয়ের জান ভিক্ষা চেয়ে আসছিলাম। আজকে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা লাগলো। আমি আমার মেয়ের খুনির ফাঁসি চাই।
কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, পাবনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল আছে জন্যই আজকে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলো। আজ ৭ দিন হয়ে গেলেও জীবিত উদ্ধার না করে মৃত উদ্ধার করতে হলো। প্রশাসন এতে প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু প্রশাসন জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি সেহেতু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার এমন পরিস্থিতিতে আমরা শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
পাবনার পুলিশ সুপার মো. আবু আশ্রাফ বলেন, নিখোঁজের ঘটনার পর থেকেই থানা পুলিশ এটি নিয়ে তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করেছিল। আমার সঙ্গে গতকাল কথা হলে অপহরণ মামলা নিয়েছি। আর আজকে সকালবেলায় লাশটা পাওয়া গিয়েছে। আমার ধারণা গতকাল রাতে লাশটি এখানে ফেলে গিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।
তিনি আরও বলেন, এই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য জেলা পুলিশের গোয়েন্দা টিম, থানার টিমসহ সবাই গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করবো।
নামাজের সময়সূচি
| ওয়াক্ত | সময়সূচি |
|---|---|
| ফজর | ৪:২৯ - ৫:৪০ ভোর |
| যোহর | ১১:৫৪ - ৪:১০ দুপুর |
| আছর | ৪:২০ - ৫:৫৭ বিকেল |
| মাগরিব | ৬:০২ - ৭:১৩ সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:১৮ - ৪:২৪ রাত |
বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬