বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২
ছবি-সংগৃহীত
বছরের ব্যবধানে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে পরিচালন মুনাফায় নতুন রেকর্ড করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খান। এ সময় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন ব্যাংকটির প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) ইকবাল হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। তবে এক বছরের ব্যবধানে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের মূলধন উদ্ধৃত হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির এমডি শওকত আলী খান বলেন, প্রভিশন সংরক্ষণের পরও ব্যাংকের নিট মুনাফা এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। দীর্ঘদিনের মূলধন ঘাটতির অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসা ব্যাংকের জন্য বড় অর্জন।
খেলাপি ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়ে এমডি বলেন, গত বছরে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির কাছ থেকে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ থেকেই আদায় হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ আদায়ে তাদের মেশিনারিজ ও সম্পদ নিলামের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সব মিলিয়ে গত বছরে খেলাপিদের কাছ থেকে নগদ আদায় হয়েছে ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। নিয়মিত যোগাযোগ, আইনি ব্যবস্থা ও পুনঃতফসিল কার্যক্রমের মাধ্যমে ঋণ আদায় জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী ২০২৬ সালে এটি ১১ থেকে ১২ শতাংশে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সোনালী ব্যাংকের ক্যাপিটাল রিস্ক ওয়েটেড রেশিও বর্তমানে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ১০ শতাংশের চেয়েও বেশি, ফলে ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের বড় অঙ্কের পাওনার কথাও তুলে ধরেন এমডি। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এলসি পরিচালনার বিপরীতে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কমিশন এখনো পাওনা রয়েছে। এই অর্থ আদায় হলে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সোনালী ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা এখনও দৃঢ় জানিয়ে শওকত আলী খান বলেন, আমানতের প্রবাহ বাড়লেও ঋণ বিতরণে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি না হয়।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)