বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি: দৈনিক সময়
নারী ও শিশুদের ওপর ধর্ষণ, নির্যাতনসহ সব ধরনের সহিংসতা বন্ধের দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পরিবেশবাদী সংগঠন 'গ্রীন ভয়েস' এবং 'বহ্নিশিখা'।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা সম্প্রতি পাশবিক নির্যাতনের শিকার ও হত্যার শিকার হওয়া শিশু রামিসাসহ দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া সব ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ
প্রতিবাদ সমাবেশে গ্রীন ভয়েস বেরোবি শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ বলেন: "আমরা বর্তমান সরকার বা বিগত সরকারগুলোর আমলের কথাই বলি না কেন বাংলাদেশ থেকে কখনোই এই ধর্ষণের অভিশাপ দূর হয়নি। আছিয়া থেকে শুরু করে রামিসা পর্যন্ত কাউকেই আমরা রক্ষা করতে পারিনি।
আমরা ফেসবুকে লেখালেখি করি, প্রতিবাদ সমাবেশ করি, কিন্তু ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে না। এর মূল কারণ আমাদের দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমাদের দেশে আসামির শান্তির ঘুম হারাম হওয়ার কথা থাকলেও, অপরাধীদের প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটায়। আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আমরা স্পষ্ট জানাতে চাই, বিচার ব্যবস্থার এই দীর্ঘসূত্রতা অবশ্যই দূর করতে হবে।"
সংগঠনের আরেক কর্মী তাসনিম তাবাসসুম বলেন:
"আজকে আমরা এমন এক লজ্জাজনক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আছি, যা ভাবতেও কষ্ট হয়। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা ধর্ষণের পেছনে মূল কারণ হলো বিচারহীনতা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা। ফলে ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আর এই সুযোগে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমরা চাই, এসব ঘটনার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা হোক, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।"
অন্যতম সংগঠক তাজবিহুল হাবিব নিশাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসার আজ স্কুলে ক্লাস করার কথা ছিল, ঈদের ছুটি মা-বাবার সাথে আনন্দে কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু কিছু মানুষরূপী অমানুষ তার দেহ-মন ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিলো। আমাদের সমাজে ধর্ষণের ঘটনাগুলো কিছুদিন গণমাধ্যমের শিরোনামে থাকে, তারপর একসময় ধামাচাপা পড়ে যায়।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেখা যায়, কারাগারে থাকা আসামিরা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় তিন বেলা খাবার পাচ্ছে, অথচ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার পাচ্ছে না। আমরা এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"