মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩


দুই কোটির সিনেমার ২০০ কোটি আয়, নেপথ্যে ‘ভক্তি’ এবং অন্য যেসব কারণ

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত:১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৬

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বলিউডের বড় তারকার মেলা নেই, নেই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ প্রচার কিংবা বিশাল বাজেট। শুরুতে সিনেমাটিকে তেমন পাত্তা দেয়নি দর্শক। মুক্তির পর প্রথম দুই সপ্তাহে বক্স অফিসেও ছিল না সাফল্যের কোনো আভাস। কিন্তু এরপরই যেন বদলে গেল পুরো চিত্র। ধীরে ধীরে ‘স্লিপার হিট’ তকমা জিতে বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে বিশাল চতুর্বেদি পরিচালিত আধ্যাত্মিক ড্রামা ‘হনুমান অংশ’।

এই ছবির এমন অভাবনীয় উত্থান শুধু ট্রেড অ্যানালিস্টদের বেশ ভাবিয়েছে সঙ্গে প্রভাব ফেলেছে খোদ বলিউড তারকাদের ছবির আয়েও। এমনকি প্রেক্ষাগৃহে চলমান এই সিনেমার দাপটেই কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেছে সদ্য মুক্তি পাওয়া অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলী খানের আলোচিত সিনেমা ‘হাইওয়ান’।

স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘হনুমান অংশ’ মুক্তির ৩৯তম দিনে ভারতে সিনেমাটির মোট কালেকশন ২৬৩.৩০ কোটি রুপি। এছাড়া ওভারসিজ বা আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ১৬.৫০ কোটি রুপি গ্রস আয় যুক্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে ছবিটির সর্বমোট কালেকশন দাঁড়িয়েছে ২৭৯.৮০ কোটি রুপিতে।

দর্শকপ্রিয়তার নেপথ্যে শুধু ভক্তি নাকি অন্য কিছু?

‘হনুমান অংশ’ ছবির এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে মূল কারণ হিসেবে অনেকেই ‘মাউথ পাবলিসিটি’ বা দর্শকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপারটিকে উল্লেখ করেছেন অনেকে। তবে অনেক রিভিউয়ায়ের মতে, ছবির বিষয়বস্তু এবং এর আধ্যাত্মিক আবেদন দর্শকদের হলমুখী করার মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনে প্রকাশ হওয়া এক রিভিউতে বলা হয়েছে, ছবিটি দর্শকদের এমন এক জগতে নিয়ে যায়, যেখানে জোর-জবরদস্তির স্থান নেই। এটি শুধু ঈশ্বরভক্তির গল্প নয়, বরং অহং ও কামনাকে অতিক্রম করার এক জীবনপাঠ। নীম করোলি বাবার জীবনের একটি বড় শিক্ষা ছিল—অপমান বা প্রতিকূলতায় প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে সম্পূর্ণ সমর্পণ। ছবিতে দেখানো হয়েছে, ভক্তির নামে আত্মপ্রবঞ্চনার চেয়ে নিজের ভেতরের ‘আমি’কে বিলীন করে কীভাবে এক ঐশ্বরিক শান্তিতে পৌঁছানো যায়। এই দার্শনিক দিকটি সব ধরনের দর্শককে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।

রিভিউতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘হনুমান অংশ’ কাউকে নির্দিষ্ট কোনো পথে ঈশ্বরকে খোঁজার বা ভক্তির একই সংজ্ঞায় আবদ্ধ থাকার শর্ত দেয় না। বরং ছবিটি প্রশ্ন তোলে—প্রার্থনায় আমরা আসলেই কী চাই? এটি দর্শকদের নিজের বিশ্বাস, সংশয় এবং চাওয়াগুলোকে নতুন করে উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়। ফলে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই নন, বরং মানবিকতা ও ভালোবাসায় বিশ্বাসী দর্শকরাও এই গল্পের সঙ্গে একাত্ম বোধ করেছেন।

হিন্দুধর্মে হনুমানকে শক্তি, ভক্তি ও আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তার অনুপ্রেরণায় মানুষের মনের ভয় দূর হয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ছবিতে নীম করোলি বাবার জীবনের মাধ্যমে এই ‘ভক্তি’র প্রকৃত রূপ তুলে ধরা হয়েছে; যেখানে কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকে না, থাকে শুধু নিঃশর্ত সমর্পণ— এই বিষয়গুলোও সিনেমাটির জন্য দর্শক টানছে বলে সিনে বোদ্ধারা বলছেন।

এছাড়াও সিনেমার বাজেট নামমাত্র, অর্থাৎ মাত্র দুই কোটি হলেও এর ভিজ্যুয়াল এফেক্টস দর্শকদের মন জুড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল বলে মনে করেন সমালোচকরা। বলা হয়, এই সিনেমার ভিজ্যুয়াল দর্শককে ভালো একটা অভিজ্ঞতা দিয়েছে। একইসঙ্গে সিনেমায় নীম করোলি মহারাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শোভিনব সত্য; যার অভিনয় দর্শকদের মন কেড়েছে।

নীম করোলি বাবা কে ছিলেন?

‘হনুমান অংশ’ সিনেমা তৈরি হয়েছে ভারতের আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক নীম করোলি বাবার জীবন অনুসারে। তার আসল নাম লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মা। ছিলেন এক অনন্য সাধারণ সাধক ও বজরংবলী বা হনুমান দেবতার পরম ভক্ত। ১৯০০ সালের দিকে উত্তর প্রদেশের আকবরপুর গ্রামে এক ধনাঢ্য ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই সাধক অনুসারীদের কাছে ‘মহারাজ জি’ এবং উত্তর ভারতে ‘মিরাকল বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন।

নীম করোলি বাবাকে নিয়ে আছে এক চমকপ্রদ ঘটনাও। টিকিট না থাকার কারণে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মাকে (নীম করোলি বাবা)। ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতেই তার অলৌকিক প্রভাবে ট্রেনটি আর চলেনি। পরে রেলকর্তৃপক্ষ তাকে সসম্মানে তুলে নিলে ট্রেন চালু হয়। এরপর সেখানে একটি স্টেশন তৈরির শর্ত রেখেছিলেন বলেও শোনা যায়। ঘটনাটি নীম করোলি নামের একটি গ্রামে ঘটে যাওয়ায় তার নাম রাখা হয় নীম করোলি বাবা।

শোনা যায়, ষাট ও সত্তরের দশকে বহু আমেরিকান ও পশ্চিমা নাগরিক তার আধ্যাত্মিক শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, অ্যাপলের স্টিভ জবস থেকে শুরু করে ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গের মতো তাবড় ব্যক্তিত্বরাও তার উত্তরাখণ্ডের কৈঞ্চী ধাম আশ্রম থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববরেণ্যদের ভালোবাসায় সিক্ত এই মহান সাধক ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মহাসমাধিতে মগ্ন হয়ে দেহত্যাগ করেন—এমনটাই প্রচলিত রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:২৯ - ৫:৪০ ভোর
যোহর ১১:৫৪ - ৪:১০ দুপুর
আছর ৪:২০ - ৫:৫৭ বিকেল
মাগরিব ৬:০২ - ৭:১৩ সন্ধ্যা
এশা ৭:১৮ - ৪:২৪ রাত

মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬