সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
গত ১০ দিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সেখানে পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা। তবে কার্যালয়ে ডিজি উপস্থিত না থাকায় শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে বের হয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির সঙ্গে দেখা করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে যান।
সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যান শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অধিদপ্তর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বের হয়ে মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে যান।
সরকারি আদেশে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ডিগ্রির কার্যকারিতা হারানোর মুখে রয়েছেন এসব শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির সব শিক্ষার্থীদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্তির নির্দেশ দিয়েছে। তবে ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট লাইসেন্সিয়েট) রেগুলেশন্স, ২০২১-এর ৪(ক)(২) ধারা অনুযায়ী, একই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ নিয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে গত শনিবার ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে আজ সকাল থেকে অপেক্ষা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। তবে সেখানেও কারও সাক্ষাৎ পাননি তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানায়, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই এসেছেন। এ কারণে তারা কারও সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না।
ডা. খুজাইমা নামে এক শিক্ষার্থী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে খুবই বিপাকে রয়েছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কোনো জায়গা থেকে সাড়া পাইনি। তাই আজ বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি। এখন যদি তারা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেন, তাহলে আমরা আরও সমস্যায় পড়ে যাব। আমরা আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি তাদের জানাতে এসেছি।
ভারতের কাশ্মীর থেকে আদ্-দ্বীনে পড়তে আসা ডা. রেজা নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন মাইগ্রেশন করে অন্য হাসপাতালে যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। আমাদের কারিকুলাম অনুযায়ী এই হাসপাতাল থেকেই পড়াশোনা শেষ করতে হবে। আমি আট বছর ধরে এখানে আছি। আমার পড়াশোনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন যদি আমাদের পড়াশোনা আটকে যায়, তাহলে এই ডিগ্রি আমার কোনো কাজে আসবে না।