সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক মাস পূরণ হয়েছে গত ২৮ মার্চ। এই এক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৭ দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও জর্ডানে মোট ৫ হাজার ৪৭১ বার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান।
মূলত এসব দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই পরিচালনা করা হয়েছে এসব হামলা, তবে বেশ কয়েকবার এই সাত দেশের সরকারি, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনাও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের শিকার হয়েছে।
এই সাত দেশের মধ্যে জর্ডান বাদে বাকি ৬ দেশ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর সদস্য। জিসিসি এবং জর্ডানের সরকারি একাধিক উৎসের বরাত দিয়ে আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রয়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। দেশটিতে একটি বিমানঘাঁটি এবং একটি নৌঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর। এ দুই ঘাঁটি এবং আমিরাতের সরকারি অবকাঠামোগত এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে গত এক মাসে মোট ৪১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৯১৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এ তালিকায় আমিরাতের পরেই দ্বিতীয় স্থানে আছে কুয়েত। কুয়েতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩টি সেনাঘাঁটি আছে। এসব ঘাঁটি এবং কুয়েতের অবকাঠামোগত ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ৩০৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান।
তৃতীয় স্থানে আছে কাতার। এই দেশটিকে লক্ষ্য করে গত এক মাসে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৯৩টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
তার পরেই আছে বাহরাইন। গত এক মাসে এই দেশটিতে আঘাত হেনেছে ১৭৪টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৯১টি ড্রোন।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, মার্কিন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা এবং সৌদির অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে গত এক মাসে ৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এছাড়া এই সময়সীমার মধ্যে জর্ডানে ২৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন এবং ওমানে ১৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)