শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে এক মর্মান্তিক হামলায় নীলুফার ইয়াসমিন (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে ডক্টর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি গ্যাস স্টেশনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাতক রোলবার্ট জোয়াচিনকে (৪০) ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ)। অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিন গ্যাস স্টেশনের দোকানে থাকা এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়ে ক্যাশিয়ার নীলুফার ইয়াসমিনের কাছে টাকা দাবি করেন। নীলুফার তাকে জানান, এটিএম মেশিনের দায়ভার তার নয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জোয়াচিন তখন চলে গেলেও বৃহস্পতিবার ভোরে ফিরে এসে তান্ডব শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে জোয়াচিন প্রথমে দোকানের সামনে রাখা নীলুফার ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত গাড়ির উইন্ডশিল্ড (সামনের কাঁচ) হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করেন। কারণ জানতে নীলুফার দোকান থেকে বেরিয়ে এলে জোয়াচিন ‘গিভ মি মাই মানি’ (আমার টাকা দাও) বলে চিৎকার করে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন।
হামলার পরপরই ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসেসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নীলুফারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে ম্যাঙ্গো এবং রেলি স্ট্রিট এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় তিনটি স্কুল, সাকসেস একাডেমি, ইয়াং প্যারেন্ট এডুকেশন প্রোগ্রাম এবং জেমস স্টিফেনস এলিমেন্টারিতে সাময়িক ‘লকডাউন’ জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে জোয়াচিন লি কাউন্টি জেলে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিনবিহীন আটক রাখার নির্দেশ দেন।
নিহত নীলুফার ইয়াসমিনের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি মাত্র তিন মাস আগে এই কনভিনিয়েন্স স্টোরে ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তার ১৬ ও ২০ বছরের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)