বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩


এক রাতেই ৯ বার কেঁপে উঠে ইরান, বড় বিপদের আশঙ্কা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:১৩ মে ২০২৬, ২২:২৭

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় পারদিস এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ধারাবাহিক নয়টি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ ঘটনা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একটি বড় ধরনের ভূকম্পন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।

বুধবার (১৩ মে) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, পারদিস এলাকাটি ইরানের অন্যতম সক্রিয় ফল্ট লাইনের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানের নিচে ও আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে টেকটোনিক চাপ সঞ্চিত হয়েছে। এতে যেকোনো সময় এই চাপ মুক্তি পেলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদিও ওই অঞ্চলে ঘন ঘন ছোটখাটো কম্পন অনুভূত হয়, তবে একই রাতে এতগুলো কম্পনের ঘটনা খুবই বিরল। ভূমিকম্পগুলো সংঘটিত হয়েছে মোশা ফল্টের কাছাকাছি এলাকায়, যা দেশটির অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফল্ট রাজধানী তেহরান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এদিকে ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৪.৬। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা কোনো বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

ভূকম্প বিশেষজ্ঞ মেহদি জারের বরাতে মেহর নিউজ জানিয়েছে, এই কম্পনগুলো ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ শক্তি নির্গমনের ইঙ্গিত কি না, নাকি আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস; তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তবে তিনি সতর্ক করেছেন, শুধু সক্রিয় ফল্ট লাইনের কারণেই নয়; ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সীমিত প্রস্তুতিও তেহরানের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তিনি বলেন, ভঙ্গুর অবকাঠামো ও যানজটের কারণে তুলনামূলকভাবে ছোট ভূমিকম্পও রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, যা জরুরি প্রতিক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।

তেহরানে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস করেন। শহরটি উত্তর তেহরান, মোশা ও রে; এই ৩টি বড় সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। ইরানি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, তেহরানের আশপাশে কোনো বড় ভূমিকম্প হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

উল্লেখ্য, ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত ইরান। ২০০৩ সালের দেশটির কেরমান প্রদেশের বাম শহরে ৬.৬ মাত্রার এই অত্যন্ত বিধ্বংসী প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

সূত্র: আলজাজিরা

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫৪ - ৫:১২ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২৩ দুপুর
আছর ৪:৩৩ - ৬:২৭ বিকেল
মাগরিব ৬:৩২ - ৭:৫০ সন্ধ্যা
এশা ৭:৫৫ - ৩:৪৯ রাত

বুধবার ১৩ মে ২০২৬