সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তির ‘কাছাকাছি’ এসেছে— প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করার পর আজ সোমবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে ৬ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যে দামে তেল বিক্রি হচ্ছে, তা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার থেকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৭ দশমিক ৭৯ ডলারে, যা গতকাল রোববারের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ ডলার বা শতকরা হিসেবে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
একই দিনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অপর ব্র্যান্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৯০ দশমিক ৮৫ রুপিতে, যা রোববারের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৫ ডলার বা ৬ শতাংশ কম।
শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যে সমঝোতা-সংলাপ শুরু হয়েছিল— তা অনেকদূর এগিয়ে গেছে। যদি একবার শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়— তাহলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ফের আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের পর থেকে কমতে শুরু করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে ব্রিটিশ বাজার বিশ্লেষক সংস্থা এমএসটি মার্কি’র বিশ্লেষক সাওল ক্যাভোনিক বলেন, “শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সমস্ত সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, এখন আশার আলো দেখা যাচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি আনবে।”
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইএনজির কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারস রয়টার্সকে বলেন, “হিসেব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শনিবারের বক্তব্যের পর তেলের দাম আরও হ্রাস পাওয়ার কথা ছিল। তিনি এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আগেও একাধিকবার এমন আশা জাগিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর পূরণ হয়নি। তাই এবার বাজারের বিক্রেতারা অনেক সতর্ক অবস্থায় আছেন। যদি সত্যিই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়— কেবল তাহলেই বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।”
ব্রিটিশ বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ফিলিপ নোভা’র বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেব বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই তেলের বাজার অস্থিরতা শুরু হয়েছিল এবং গত সপ্তাহে তা রীতিমতো আগ্রাসী পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। সেখান থেকে তেলের দাম ৬ শতাংশ কমে যাওয়া আশার খবর নিশ্চয়ই; কিন্তু সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।”