সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলারের একটি আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন কর্মসূচি তহবিল পেতে পারে তেহরান। ইতোমধ্যই দুই দেশের আলোচকরা একটি ঐতিহাসিক সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে যে সংঘাত শেষ হয়ে গেলে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি এবং রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিল্প ও শহরসহ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সেই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল হবে, যার অর্থ হলো এই অর্থ একাধিক দেশ থেকে আসতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে সহায়তা করবে। এই কাঠামোতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিদেশি ব্যাংকে আটক ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ানোর সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে ইরান জোর দিয়ে বলেছে, চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হওয়ার আগে এই অর্থ অবশ্যই ছাড় করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের মতে, আলোচ্য খসড়া চুক্তিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে। এর একটি প্রধান শর্ত হলো- যুদ্ধের অবসান, যদিও এই ধরনের শান্তি ব্যবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এছাড়াও সম্ভাব্য এই চুক্তিতে একটি অনাক্রমণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই একে অপরকে আক্রমণ না করতে সম্মত হবে। মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরেও প্রসারিত হতে পারে এবং এতে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যার মধ্যে লেবাননে যুদ্ধবিরতিও থাকতে পারে।
এছাড়াও পারমাণবিক ইস্যুতে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে সম্মত হবে এবং পরবর্তীতে একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে উভয় পক্ষ ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনা চলাকালীন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ স্থগিত বা বন্ধ রাখবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করতে সম্মত হবে ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। তবে ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশেই রাখতে চায়, যার একটি অংশ ঘনত্ব কমানো হবে এবং বাকিটা সম্ভবত বিদেশে পাঠানো হবে।
পরে ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানো বা অন্য কোনো দেশে তা স্থানান্তর করার মতো বিকল্পগুলোও তিনি মেনে নিতে পারেন। তবে, তিনি চান না যে এটি রাশিয়া বা চীনে সংরক্ষণ করা হোক।
অন্যদিকে খসড়াটিতে ইরানকে কিছু তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানি এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইরানের জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বড়সড় বিদেশি বিনিয়োগের দুয়ার উন্মোচিত হবে।
এছাড়াও আলোচনা চলাকালীন ইরান ৩০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে সীমিত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতিও দিতে পারে, যদিও পুরোপুরি চালু হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, টাইমস অব ইসরায়েল