বৃহঃস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ক্রু সদস্য নিখোঁজ ও একজন আহত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা কমকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতো মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাাখতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অতীতে এ ধরনের হামলার আগে জাহাজের ক্রুদের সামনের অংশে জড়ো হতে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপর জাহাজের পেছনের অংশে হামলা চালানো হয়েছিল।
আরেকটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রও জানিয়েছে, জাহাজটি সম্ভাব্য মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে জাহাজের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বলেছে, পালাউয়ের নিবন্ধিত একটি রাসায়নিক ও তেলপণ্যবাহী ট্যাঙ্কার ওমানের সোহার বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইঞ্জিন কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের তথ্য জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম সেটেবেল্লো। জাহাজটি থেকে বিপদ সংকেত পেয়ে ওমানের নৌবাহিনী সাড়া দিয়েছে।
জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্রাফিকের তথ্যানুযায়ী, জাহাজটিতে আংশিক মালামাল বোঝাই ছিল। এটিকে সবশেষ গত ১ জুন ওমান উপকূলের কাছে শনাক্ত করা হয়েছিল।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, ডাটাবেজে পাওয়া তথ্যে জাহাজটির পরিচালনায় ভারতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। এরপর গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলছে, গত ৮ জুন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী সাতটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অন্তত ১৩৪টি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে এবং মানবিক সহায়তাবাহী ৪২টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, সোমবার ম্যারিভেক্স নামের একটি খালি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে ওমান উপসাগরে অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি অবরোধ অমান্য করে একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।