বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় জরুরি উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সান বার্নার্দিনো এলাকায় একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে গুয়েরা বলেন, ‘আমাদের দেশে ঘটে চলা এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আজ ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। আজকে আমাকেও রাস্তায় নামতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, সরকারের কাছে খবর এসেছে যে রাজধানীতে চারটি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে সান বার্নার্দিনোতে দুটি, পিন্টো সালিনাসে একটি এবং এল পারাইসোতে একটি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনে আটকে পড়া বাসিন্দাদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকায় পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের অনেক পুরোনো ভবন রয়েছে। আমরা পূর্ব কারাকাসের চাকাও এবং বারুতা পৌরসভাতেও ভবন ধসে পড়তে দেখেছি। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে আমরা রাস্তায় নেমে মানুষকে সাহায্য করছি।’
মাদুরো গুয়েরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা এবং ফ্যালকন রাজ্যও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলের একটি পোস্টে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো বলেন, ‘আজকের বার্তা একটাই: সর্বোচ্চ ঐক্য, সর্বোচ্চ সংহতি এবং সর্বোচ্চ পদক্ষেপ।’
চলতি বছরের শুরুতে কারাকাসের প্রেসিডেন্সিয়াল বাসভবন থেকে মার্কিন বাহিনী মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। সেখানে তাদের মাদক পাচার এবং অস্ত্র আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
টেলিগ্রাম পোস্টে মাদুরো বলেন, ‘কেউ যেন একা না থাকে, প্রতিটি সম্প্রদায় যেন তাদের সন্তান, দাদা-দাদি ও অসুস্থদের যত্ন নেয়।’ তিনি জনগণকে উদ্ধার ও চিকিৎসা দলের কাজে সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা আজ অনেক বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সংহতির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াব।’
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো বলেন, ‘ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চারদিকে বহু ভবন ধসে পড়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে আরও মূল্যায়নের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, বুধবার কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এ ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি।