বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
চীনের কাছ থেকে চারশর বেশি ‘শোল্ডার ফায়ার্ড’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিচ্ছে ইরান। যেগুলোর প্রথম চালান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানিদের কাছে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। এরমধ্যেই চীনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিচ্ছে তেহরান। এই শোল্ডার ফায়ার্ড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো দিয়ে কাঁধ থেকে মিসাইল ছোড়া হয়। যেগুলো আকাশে থাকা যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিন থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরানি সেনারা। ওই সময় শোনা গিয়েছিল কাঁধ থেকে ছোড়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েই মার্কিনিদের ওই বিমানটিকে মাটিতে নামিয়ে এনেছিল ইরানিরা।
রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে ইরানের ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে। আর এই অর্থ দিয়ে তারা ৩০০ থেকে ৪০০টি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ম্যান পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমস (ম্যানপ্যাডস) কিনছে।
বার্তাসংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ইরানের স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা।
যুদ্ধ শুরুর পর দেখা গেছে পর্যাপ্ত ও কার্যকরী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ইরান তাদের মূল্যবান সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে রক্ষা করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইরান এই যুদ্ধাস্ত্রের জন্য চুক্তি করেছে হংকংভিত্তিক জংকিং বাওসাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি কোম্পানির সঙ্গে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই কোম্পানি ইরানি কর্তৃপক্ষ ও চীনা সরবরকারীদের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে চীন রয়টার্সের এ প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে দাবি করেছে। এছাড়া পাকিস্তান এই অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত আছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের মতো পাকিস্তানও নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে।