বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ধূমপান কেবল ফুসফুস বা হার্টের ক্ষতি করে না, এটি মারাত্মক বাতের রোগ 'রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস' বা এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়— সিগারেটের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা নিঃশব্দে মানুষের স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও নড়াচড়া করার ক্ষমতা কেড়ে নেয়।
আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের এই ভয়াবহতা কেবল ধূমপায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যেসব নারী ছোটবেলায় তাদের বাবা-মায়ের ধূমপানের কারণে ‘প্যাসিভ স্মোকিং’ বা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন, বয়সকালে তাদের রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অর্থাৎ ঘরের ভেতরে ধূমপান করলে তা শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি কুপ্রভাব ফেলে।
এত বছর ধরে জেনে এসেছেন ধূমপান করলে ফুসফুসের রোগ, হার্ট অ্যাটাক কিংবা ক্যানসারের মতো মারণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। ধূমপান কেবল ফুসফুস বা হার্টের ক্ষতি করছে না— এটি নিঃশব্দে কেড়ে নিচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও নড়াচড়া করার স্বাধীনতাও।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, ধূমপানের কারণে মানুষের শরীরে এখন থাবা বসাচ্ছে ‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’বা মারাত্মক বাতের রোগ। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস মূলত একটি ‘অটোইমিউন ডিজিজ’। এর অর্থ হলো— যখন আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত বাইরের শত্রুর বদলে নিজের শরীরের সুস্থ কোষ ও জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করতে শুরু করে।
সিগারেটের ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলো ফুসফুসে প্রবেশ করে এক ধরনের অস্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে। ফলে শরীরে ‘রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর’ এবং ‘অ্যান্টি-সিসিপি’র মতো ক্ষতিকর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করে। অনেক সময় জয়েন্টে ব্যথা শুরু হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকেই এই উপাদানগুলো রক্তে জমতে থাকে।
যদি কোনো ব্যক্তির পরিবারে বা বংশে আগে থেকেই কোনো অটোইমিউন বা বাতের রোগের ইতিহাস থাকে, তবে ধূমপান সেই রোগটিকে শরীরে দ্রুত ‘সুইচ অন’ বা সক্রিয় করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে থাকে।
রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের বড় সমস্যা হলো— এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখে খুব সাধারণ মনে হয়। অনেকেই একে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা সাধারণ গা-হাত-পায়ের ব্যথা বলে মনে করেন। অল্পবয়সি ধূমপায়ীরা ভাবেন, বাতের রোগ শুধু বয়স্কদেরই হয়। আসলে বিষয়টি তেমন নয়।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে জয়েন্ট বা গাঁট শক্ত হয়ে থাকা। আর আঙুল, কব্জি বা হাঁটুতে হালকা ফোলা ভাব এবং উভয় হাত বা পায়ে একই সঙ্গে ব্যথা হওয়া। এ ছাড়া জয়েন্টের চারপাশে গরম হয়ে ওঠা এবং হাত-পায়ের নমনীয়তা বা ফ্লেক্সিবিলিটি কমে যাওয়া। আর চায়ের কাপ বা পানির বোতল ধরতে সমস্যা হওয়া বা হাত থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া।