মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রতীকী ছবি
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দামি সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই। সেজন্য সম্ভবত আপনার ঘরেই প্রাকৃতিক ও অত্যন্ত কার্যকর খাবার মজুত আছে। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রয়োবায়োটিক খাবার যোগ করার মাধ্যমে আপনি সহজেই হজমশক্তি বাড়াতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা করতে পারবেন।
প্রোবায়োটিক হলো উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য বিভিন্ন উপকারিতার জন্য পরিচিত। এই উপকারিতাগুলো সাপ্লিমেন্টের চেয়ে খাবারে বেশি পাওয়া যায়, কারণ উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ এবং অন্যান্য বায়োঅ্যাকটিভ যৌগও থাকে। যা হজম এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ভূমিকা রাখে। চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রোবায়োটিকের প্রাকৃতিক কয়েকটি উৎস সম্পর্কে-
দই প্রোবায়োটিক সরবরাহের জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে। এটি স্বাস্থ্যকর অন্ত্রকে সহায়তা করে। তবে বাড়তি চিনি মেশানো মিষ্টি দই কিংবা বাইরে থেকে কেনা কৃত্রিম স্বাদযুক্ত দই নয়, চেষ্টা করুন ঘরে তৈরি টক দই নিয়মিত খেতে।
বাটারমিল্ক বা ঘোল পান করা আপনার জন্য বিশেষ উপকারী হতে পারে। যা শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজম ও পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। প্রয়োবায়োটিক এই খাবার আপনার খাদ্যতালিকার অংশ করে নিন।
ইডলি ও দোসার ব্যাটার প্রাকৃতিকভাবে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এগুলো উপকারী জীবাণুতে সমৃদ্ধ, যা হজমশক্তি বাড়ায় এবং পুষ্টি উপাদানকে আরও ভালোভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করে।
বাড়িতে তৈরি আচার, যাতে খুব বেশি ভিনেগার ব্যবহার করা হয়নি, তাও উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ করে অন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে।
প্রোবায়োটিক ক্যাপসুলের অস্তিত্বের আগে থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পুষ্টি জুগিয়ে আসছে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই খাবারগুলো খেলে তা স্বাস্থ্য রক্ষায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, পেট ফাঁপা কমাতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সাপ্লিমেন্টের উপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন ধরণের খাবার খাওয়া।
প্রোবায়োটিকের স্বাস্থ্য উপকারিতা কী?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, অনেক প্রোবায়োটিক পণ্যে উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট থাকে। এগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে বা তা থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করে, যেমন:
-অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস এবং ব্রণ।
-দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগ।
-যোনি এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই)।
-অ্যান্টিবায়োটিক-জনিত ডায়রিয়া।
প্রোবায়োটিক সরাসরি স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা করে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, আপনার পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম নির্দিষ্ট পুষ্টি এবং ওষুধ ভাঙতে ও শোষণ করতে সাহায্য করে, উপজাত হিসেবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান তৈরি করে। এছাড়াও হজমের পর পিত্তরস ভেঙে ফেলতে এবং পুনর্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্ষতিকর জীবাণু চিনতে ও নির্মূল করতে প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করে।