বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ইমাম, আলেম ও ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবদুস ছালাম খান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ অভিবাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোকজন যেন পাচারের শিকার না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সারাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ মসজিদ আছে। এসব মসজিদের ইমাম এবং আলেম-ওলামারা খুতবায় নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।’
বুধবার (১১ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে ইমামদের নিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘আমার বাড়ি মাদারীপুরে। সেখানকার সবাই ইতালি যেতে চায়। অনেকেই নিরাপদ পথে না গিয়ে ভুল পথে যান। এসব বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। ইমাম ও আলেমরা এই সচেতনতা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন।’
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে ইমামদের নিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত কর্মশালা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ কাজের জন্য বৈধভাবে বিদেশে যাচ্ছেন। আবার অনেকে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে প্রাণহানি ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
শরিফুল হাসান বলেন, এই পাচার বন্ধ করা জরুরি। এজন্য আমরা নানাভাবে সচেতনতা তৈরির কাজ করছি, যেখানে ইমাম ও আলেমরা বড় শক্তি হতে পারেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন। আরও বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার এবং দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।
সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব ও মাওলানা উপস্থিত ছিলেন। তারা মানবপাচার ও মানব চোরাচালান প্রতিরোধে এবং নিরাপদে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির অঙ্গীকার করেন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)