বৃহঃস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩


স্বরাষ্ট্র সচিব

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৪ মে ২০২৬, ১৫:৩৩

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র মোকাবিলায় সরকার নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন করেছে, যা মানব পাচার দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬ বিষয়ক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস এন্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান এখন বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

তিনি জানান, ২০০০ সালে গৃহীত জাতিসংঘের কনভেনশন এবং এর সম্পূরক টিআইপি ও এসওএম প্রোটোকলের আলোকে সরকার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, নতুন এই আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিকটিমদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে শুধু আইন করলেই হবে না। জনগণকে সচেতন করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন আইনের মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো এ সংক্রান্ত সব বিধান একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন আইনে পাচারকারীদের সহযোগিতা করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে কাউকে আমদানি বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন বা বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে পাচারকারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পদ অনুসন্ধান করতে পারবেন। একই সঙ্গে মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের বিচারও একসঙ্গে করতে পারবে।

ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইনে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কাউকে ভয়ভীতি দেখালে ৩ থেকে ৭ বছর এবং আপসে বাধ্য করলে ২ থেকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পাচারের শিকার কোনো ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ কাজে জড়ালে তাকে আসামি হিসেবে গণ্য না করার বিষয়টিও আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫৪ - ৫:১২ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২৩ দুপুর
আছর ৪:৩৩ - ৬:২৮ বিকেল
মাগরিব ৬:৩৩ - ৭:৫১ সন্ধ্যা
এশা ৭:৫৬ - ৩:৪৯ রাত

বৃহঃস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬