রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


‘মোটরসাইকেলের কর আমি দেব না’—এনবিআরের সামনে প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৭ মে ২০২৬, ১৫:০২

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

‘জুলুম নয়, অধিকার চাই’, ‘মোটরসাইকেলের কর আমি‌ দেব না’, ‘বাইক আমাদের প্রয়োজন, এটা বিলাসিতা নয়’—বুকে ও পিঠে এমন স্লোগান লেখা ফেস্টুন ঝুলিয়ে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন যুবক। তার নাম জসীম উদ্দীন। তবে একাকী এই প্রতিবাদ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না; কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও অনেক বাইকার তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে যোগ দিলেন তার সঙ্গে। উদ্দেশ্য একটাই– আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব বাতিল করা।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে এভাবেই অধিকার আদায়ের দাবিতে সরব হয়ে ওঠেন মোটরসাইকেল চালকেরা।

রাজধানীর ফার্মগেটের তেজকুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জসীম উদ্দীন একজন নিয়মিত বাইকার। এনবিআরের সামনে গলা ফাটিয়ে নিজের দাবির কথা বলছিলেন তিনি। তার গলায় ও পিঠে ঝোলানো ফেস্টুনে সহযোদ্ধা বাইকারদের পক্ষের দাবিগুলোও লেখা ছিল। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব বাতিলের দাবি নিয়ে আজ আমি এসেছি। আমার মতো আরও অনেক বাইকার এখানে উপস্থিত হয়েছেন নিজেদের দাবি তুলে ধরার জন্য।’

জসীম উদ্দীন আরও বলেন, ‘মধ্যবিত্তের এই আইন মোটরসাইকেলে বাড়তি কর বাতিল হোক। বাইক আমাদের প্রয়োজন, এটা বিলাসিতা নয়। যাতায়াত সহজ করার উদ্যোগ নিন, সেখানে করের চাপ দিয়েন না। পাশাপাশি সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করে নিরাপদ সড়ক চাই।’

যতক্ষণে জসীম উদ্দীন নিজের দাবির কথা জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনসহ কথা বলছিলেন, ততক্ষণে আরও অনেক বাইকার তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সামনে উপস্থিত হন। তাদের লক্ষ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি প্রদান করা। এর আগে রোববার (আজ) এনবিআরের সামনে একটি মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে বাইকারদের পক্ষের সমন্বয়ক এ কে এম ইমন বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি দেব এবং এনবিআর কার্যালয়ের সামনে আমরা এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন পালন করছি।’

বক্তারা জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর নতুনভাবে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার বিষয়টি দেশের লাখো বাইকারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১১-১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক ২ হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল বর্তমানে কেবল শখের বাহন নয়; বরং এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, কর্মসংস্থান ও জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রাইড শেয়ারিং চালকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সময় সাশ্রয় ও যানজট এড়াতে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল।

বাইকারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে অনেক নারীও ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করছেন। গণপরিবহনে হয়রানি ও অনিরাপত্তা এড়িয়ে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল তাদের জন্য একটি কার্যকর ও আত্মবিশ্বাসী মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এ অবস্থায় মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ নারীদের স্বাধীন চলাচলেও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা এবং জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধ করে আসছেন। এর পাশাপাশি নতুনভাবে অগ্রিম আয়কর আরোপ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

এ সময় বাইকারদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ জনগণের প্রয়োজনীয় পরিবহন মাধ্যম হিসেবে মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়। দেশের লাখো মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

পরে বাইকারদের একটি প্রতিনিধিদল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, যারা বৈধভাবে মোটরসাইকেল কেনেন এবং আনুষঙ্গিক সব ফি, বিমা ও কর পরিশোধ করেন, তাদের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ একটি অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির বাইকারদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এই কর আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এ ধরনের অতিরিক্ত কর সাধারণ জনগণের জন্য আরও চাপ সৃষ্টি করবে। এছাড়া এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করবে, যা কর্মজীবী মানুষের চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্মারকলিপির মাধ্যমে বাইকারদের চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তাদের দাবিগুলো মধ্যে রয়েছে- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা। মোটরসাইকেলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ জনগণের প্রয়োজনীয় পরিবহন মাধ্যম হিসেবে মূল্যায়ন করা। বাইকারদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে পরিবহন খাতকে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নারী বাইকারদের নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫২ - ৫:১১ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২৩ দুপুর
আছর ৪:৩৩ - ৬:২৯ বিকেল
মাগরিব ৬:৩৪ - ৭:৫২ সন্ধ্যা
এশা ৭:৫৭ - ৩:৪৭ রাত

রবিবার ১৭ মে ২০২৬