মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


মঞ্চে উঠতে পারেননি সেতুমন্ত্রী

পটুয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

পটুয়াখালী থেকে

প্রকাশিত:১৯ মে ২০২৬, ১৮:৪৬

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বগা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও উত্তেজনার মধ্যে বাউফল প্রান্তের মঞ্চে উঠতে পারেননি তিনি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে বাউফল উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল উপজেলাকে সংযুক্ত করতে বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে সেখানে যান সেতুমন্ত্রী। ফেরিঘাটের পূর্ব প্রান্তে বাউফলের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সৌজন্যে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়।

মন্ত্রী পশ্চিম পাড়ের (দুমকি অংশ) ফেরিঘাট থেকে ফেরিতে করে পূর্ব পাড়ে (বাউফল অংশ) পৌঁছালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। সভাস্থলে মন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

এ সময় ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে উদ্দেশ্য করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তীব্র রোদের মধ্যে এমন পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে সেতুমন্ত্রী পুলিশের সহযোগিতায় ফেরিতে উঠে আবার পশ্চিম পাড়ে ফিরে যান। পরে সেখানে নির্মিত আরেকটি মঞ্চে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কূট্টিসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সৌজন্যে তৈরি সভাস্থলের ব্যানারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ছিল না। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন।

জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানায়, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারাও গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, সভাস্থলের ব্যানারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তাই সভামঞ্চে না যাওয়ার জন্য সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করা হয়।

এদিকে পশ্চিমপাড়ে নির্মিত সভামঞ্চে মন্ত্রীর সামনে বক্তব্যের একপর্যায়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমি মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বাউফলবাসীর কথা রেখেছেন, কষ্ট করে এসেছেন। আমাদের যে ভুলভ্রান্তি হয়েছে সেগুলোর জন্য আমরা বাউফলবাসী, আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাচ্ছি, যদি আপনি কোনো বিষয়ে কষ্ট পেয়ে থাকেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫১ - ৫:১০ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২৩ দুপুর
আছর ৪:৩৩ - ৬:৩০ বিকেল
মাগরিব ৬:৩৫ - ৭:৫৪ সন্ধ্যা
এশা ৭:৫৯ - ৩:৪৬ রাত

মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬