বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনমুখী সেবা নিশ্চিত করতে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে কমিশনের সদস্যরা জানান, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, জবাবদিহিতা, নিরাপত্তা এবং জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তারা ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন। আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে দেওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সুপারিশের অনেক বিষয় কমিশনের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের মতামতও প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে।
কমিশনের সদস্যরা বিশেষভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ানোর অনুরোধ জানান। তাদের মতে, শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে রোগের চাপ, চিকিৎসা ব্যয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
এছাড়া কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশের সঙ্গে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক ইশতেহারেরও উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জবাবদিহিতা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে এ মিল রয়েছে বলে জানানো হয়।
বৈঠকে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন, ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, এম এম রেজা, ডা. আজহারুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।