রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গাবতলীর পশুর হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্রেতার নজর মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দিকে। বড় গরুগুলো ঘিরেও আগ্রহ রয়েছে। তবে সেগুলো তারা দেখছেন, ছবি তুলছেন; কখনো কখনো দামও জিজ্ঞেস করছেন। এ হাটের সার্বিক পরিস্থিতি বলতে বেচা-কেনার চিত্র এখনো ধীর।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে হাট ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দর্শনার্থী ও আগ্রহী ক্রেতা থাকলেও বড় দামের গরু কিনতে এগিয়ে আসছেন খুব কম মানুষ। অনেকেই বাজার যাচাই করছেন। কেউ কেউ দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। প্রকৃত ক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষি হচ্ছে, তা খুবই কম।
কুষ্টিয়া থেকে একটি গরু নিয়ে গাবতলীর হাটে এসেছেন রেজাউল ইসলাম। প্রায় ২৫ মণ ওজনের গরুটির দাম হাঁকছেন ১২ লাখ টাকা। কেউ কেউ দাম করছেন। তবে নেওয়ার মতো এখনো কেউ দাম বলেননি। তিনি বলেন, গরু বড়, অনেকেই দেখতে আসেন, দাম জিগায়, গরু দেখতে ভিড় থাকলেও দামাদামি করছেন খুব কমজনই। 'খাবারের খরচ ও পরিচর্যায় অনেক ব্যয় হয়েছে, তাই ভালো দাম না পেলে বিক্রি করবেন না' বলে জানান তিনি।
সরেজমিন হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের মূল আগ্রহ এখন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি ওজনের গরুর দিকে। তুলনামূলকভাবে ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুগুলোর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।।
১ লাখ ৫৮ হাজার দিয়ে প্রায় চার মণ ওজনের গরু ক্রয় করেছেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, সকাল থেকে গরু বেচাকেনা দেখলাম। বিক্রেতারা এখন খুব দাম বেশি চাচ্ছে। চার থেকে ৫ মণের গরু এখন দেড় থেকে ২ লাখ টাকা দাম চায়। অনেক দর কষাকষির পর এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে নিলাম।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকায় মাঝারি গরু দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। বড় গরু দেখতে মানুষ ভিড় করলেও উচ্চ দামের কারণে চূড়ান্ত ক্রয় কম হচ্ছে। ফলে পুরো হাটে এখন মাঝারি গরুর দিকেই ক্রেতাদের ঝোঁক দেখা যায়।
এদিকে লক্ষ্মীপুর থেকে ২৫টি গরু নিয়ে গাবতলীর পশুর হাটে এসেছেন ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম। খামারে লালন-পালন করা গরুগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত। তিনি বলেন, হাটে এখনো পুরোপুরি জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়নি, তবে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে।
শরিফুল ইসলাম বলেন, অনেকেই এসে গরু দেখছেন, দরদাম করছেন, তবে বেশিরভাগ ক্রেতাই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
তিনি মনে করেন, সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই হাটে কেনাবেচার গতি বাড়বে। বিশেষ করে রাতের দিকে ক্রেতার চাপ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন এই ব্যবসায়ী। কোরবানির সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই মধ্যম দামের গরুর চাহিদা বাড়বে এবং হাটে জমে উঠবে বেচাকেনা।
শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ২২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন জালাল ব্যাপারী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গরু আনলেও এখনো আশানুরূপ বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানান তিনি।
জালাল ব্যাপারী বলেন, অনেকেই গরু দেখছেন ও দরদাম করছেন, কিন্তু বেশিরভাগ ক্রেতাই এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন। শেষ সময়েই হাটে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হবে বলে তার আশা।
কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে ৯টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন মো. ইদবাল আলী। তার নিজের দুটি গরুসহ আত্মীয় স্বজনের সাতটি। কয়েকদিন ধরে হাটে অবস্থান করলেও এখনো একটি গরুও বিক্রি করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। ইদবাল আলী বলেন, ক্রেতারা এসে গরু দেখছেন, দরদামও করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিনছেন না। খাবার, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বাড়তে থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই ব্যবসায়ী। তবে শেষ মুহূর্তে হাট জমে উঠবে এবং ভালো বিক্রি হবে বলেই এখনো আশা ছাড়ছেন না তিনি।
মহিষ দেখতে ভিড়
ফরহাদ ব্যবসায়ীর আনা 'জাফরাবাদী' জাতের একটি মহিষ এখন হাটে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ১৩০০ কেজি ওজনের বিশাল এই মহিষটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। হাটে আসা অনেকেই মহিষটি দেখতে ভিড় করছেন এবং ছবি তুলছেন। বড় আকৃতির এই মহিষটি হাটে যেমন সবার নজর কাড়ছে, তেমনি দাম শুনে অনেকেই আবার পিছিয়েও যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।