সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


রাজধানীর পশুর হাটে বৃষ্টির বাগড়া, বিড়ম্বনায় ক্রেতা-বিক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৪ মে ২০২৬, ২৩:১১

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের অসহ্য ভ্যাপসা গরমের পর রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি নামলেও কোরবানির পশুর হাটগুলোতে তা স্বস্তির বদলে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি করেছে। বৃষ্টির কারণে হাটের ভেতরে কাদা ও পানি জমে যাওয়ায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, কমে গেছে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি, আর এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খামারি ও ব্যাপারীরা।

রাজধানীর তেজগাঁও পশুর হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি গরু ক্রেতার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকলেও হাটে দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। বৃষ্টির কারণে পুরো হাট এলাকা কাদায় একাকার হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জমে আছে পানি ও ময়লা-আবর্জনা, ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সাধারণত এ সময় হাটে ব্যাপক ক্রেতার ভিড় থাকলেও এবার আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে সেই চিত্র উল্টো।

খামারিরা জানান, বৃষ্টির কারণে হাট শুরুর সময়েই বেচাকেনা কমে গেছে। সিরাজগঞ্জের খামারি মজনু আহমেদ সাতটি গরু নিয়ে হাটে এলেও এখন পর্যন্ত একটিও বিক্রি হয়নি। তিনি বলেন, ক্রেতারা আসছেন, দামাদামি করছেন, কিন্তু কেনাকাটা করছেন না। প্রতিদিনের খরচ থাকায় তিনি দ্রুত বিক্রির আশা করলেও পরিস্থিতি অনুকূলে নেই।

একই হাটে থাকা আরেক খামারি নজরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছরে পশু লালন-পালনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পশুখাদ্যের দাম, পরিবহন খরচ এবং ট্রাক ভাড়া—সবকিছুই বেড়ে যাওয়ায় এবার লাভের মার্জিন অনেক কমে গেছে। তার মতে, খরচ বাড়লেও সেই অনুযায়ী পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

জামালপুরের খামারি শাকিল মিয়া ১৩টি গরু নিয়ে তেজগাঁও হাটে এসেছেন। ঢাকার হাটে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি জানান, এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভাষায়, সাধারণত এই সময়ে হাটে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক কম। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে আবহাওয়া না ভালো হলে ন্যায্য দামে পশু বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে হাটে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, বৃষ্টির কারণে তাদের কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। কাদা ও ময়লা-আবর্জনার কারণে হাট পরিচালনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবে তারা দাবি করেন, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

এদিকে রোববার (২৪ মে) বিকেলে হঠাৎ ঢাকার আকাশ মেঘে ঢেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে রাজধানীর বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর হাটে একই চিত্র দেখা যায়। বিশেষ করে শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায় স্থাপিত হাটে বৃষ্টির পর পুরো এলাকা কাদায় পরিণত হয়। কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যাপারীরাও জানান, বিকেলের পর থেকে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। তারা আশা করেছিলেন সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়বে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেই সম্ভাবনাও ভেস্তে যায়। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং পশু বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

অন্যদিকে ক্রেতারাও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। খিলগাঁও এলাকার এক ক্রেতা জানান, হাটজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটা যাচ্ছে না। গরু দেখা ও পছন্দ করতেও সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় আজ কেনাকাটা করা প্রায় অসম্ভব।

আরেক ক্রেতা জানান, কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে গরু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে, এমনকি গরু ছুটে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনেকে গরু কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।

হাট এলাকায় একাধিকবার গরু নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাও ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন পরিস্থিতিতে হাটে আসা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য।

হাট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়করা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে এবং বেচাকেনা স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৪৮ - ৫:০৮ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২৪ দুপুর
আছর ৪:৩৪ - ৬:৩৩ বিকেল
মাগরিব ৬:৩৮ - ৭:৫৮ সন্ধ্যা
এশা ৮:০৩ - ৩:৪৩ রাত

সোমবার ২৫ মে ২০২৬