বৃহঃস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি : মামুন রশীদ
দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই নীতিকে সামনে রেখেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ফল উৎসব অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ১৬ বছরের আন্দোলনে দেশের শ্রমিক, কৃষক, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। সেই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ ১৬ বছরে বিএনপি সবচেয়ে বেশি হত্যা, গুম, হামলা ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছে। দলের অসংখ্য নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম জাতির দর্পণ। তাই বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। আন্দোলনের সময় যেভাবে অনেক সাংবাদিক সত্য ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছিলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও একইভাবে বস্তুনিষ্ঠ ও ন্যায়ভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশের মানুষের পাশে থাকতে হবে।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘বিএনপি সবসময় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় গণমাধ্যমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ পেয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ বছরে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। নানা উপায়ে তার রাজনৈতিক অধিকার ও বক্তব্য প্রচারের সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা করা হলেও জনগণের সমর্থনের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। সংসদ, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং বাংলাদেশকে আরও গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বক্তব্যের শেষাংশে মাহাদী আমিন বলেন, ‘আমাদের নীতি একটাই সবার আগে বাংলাদেশ। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সমতা, মানবিকতা ও উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষ সমানভাবে ভোগ করতে পারবেন।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন। সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সেক্রেটারি মাইনুল হাসান সোহেল। এছাড়াও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।