মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোজাফফর হোসেনের সেনা আইনে বিচার হবে। একই অপরাধে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই আইনে পৃথকভাবে বিচার করার সুযোগ নেই। এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে দরবার শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মোজাফফর হোসেন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে অবস্থান করছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর সেনা আইন অনুযায়ী বিচারের জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে। আগে একই মামলায় যাদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে।
মোজাফফরের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত বা ফৌজদারি মামলা হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে মিলিটারি অ্যাক্ট প্রযোজ্য।
যেহেতু তিনি একই মামলার পলাতক আসামি ছিলেন, তাই সেনাবাহিনী তাদের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পরে সিভিল কোর্টে কোনো আইনি বিষয় প্রযোজ্য হলে তা আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি, যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে নজরদারি আরও কার্যকর করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, যেন দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজিবির প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায়। এসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।