বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩


একনেকে অনুমোদন

বিমানবন্দর ও পাতাল রেলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২২ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৬

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

টানা ছয় মাসের অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতা কাটিয়ে গতি ফিরছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ রাজধানীমুখী কোটি মানুষের যাতায়াত সহজ করার এই অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
 
মূল পরিকল্পনার বাইরে বাইপাইল ইন্টারসেকশন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবং এমআরটি লাইন-১ (পাতাল রেল)-এর সঙ্গে নতুন করে সংযোগ যুক্ত হওয়ায় এই প্রকল্পের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যয় একলাফে ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকায় ঠেকেছে।
 
বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ তিন হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
 
বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
 
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে- তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। একনেক সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
 
২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলা থেকে শুরু হয়ে আবদুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো ও বাইপাইল অতিক্রম করবে এবং ঢাকা ইপিজেড এড়িয়ে সাভারের শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত এই সড়কটি চালু হলে ঢাকার যানজটপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে একটি দ্রুতগতির যোগাযোগ করিডোর তৈরি হবে। সমন্বিত পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা, নগরীর যানজট কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গে প্রকল্পটি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত হওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় ও যাতায়াতের সময় অনেক কমে আসবে।
 
একনেক সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে পাঁচ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা জোগাড়ের কথা ছিল। পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা করা হয়। তবে এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকায়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতি, ভ্যাট-আয়কর ও কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, ভূমি অধিগ্রহণ এবং পরামর্শক সেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই ব্যয় সংশোধন করতে হলো।
 
ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে প্রকল্পের সময়সীমাও। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছর পর ঋণ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর আগে মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আরও চার বছর সময় চেয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটিতে মোট ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যার আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ভৌত কাজের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে।
 
উল্লেখ্য, একই একনেক সভায় সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২), বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান এবং দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেগমগঞ্জ-৫ নম্বর একটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ নম্বর দুটি অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন সংক্রান্ত দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫৮ - ৫:১৮ ভোর
যোহর ১২:০৫ - ৪:৩৪ দুপুর
আছর ৪:৪৪ - ৬:৪১ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৬ - ৮:০৬ সন্ধ্যা
এশা ৮:১১ - ৩:৫৩ রাত

বৃহঃস্পতিবার ২৩ জুলাই ২০২৬