সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ফাইল ছবি
হজ পালনের জন্য এবার থেকে স্বাস্থ্যগত ছাড়পত্র বা মেডিকেল ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজের ভিসা দেওয়ার আগে প্রত্যেক হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। হজ ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই সনদকে অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
হজের সময় প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা জরুরি। হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হজযাত্রীদের মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোনো কোনো দেশে এই পরীক্ষা দুই ধাপে নেওয়া হতে পারে। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এমন কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন না, যা হজ পালনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে। এটি নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে প্রক্রিয়াজাত হবে। হজ ভিসা দেওয়ার আগে এই সনদ প্রয়োজন হবে এবং সৌদি আরবে প্রবেশের সময়ও কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করতে পারে।
তবে স্বাস্থ্য ছাড়পত্রের পাশাপাশি নির্ধারিত টিকাগ্রহণের শর্তও বহাল থাকবে। বিশেষ করে মেনিনজাইটিসের কোয়াড্রিভ্যালেন্ট টিকাসহ সৌদি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অন্যান্য টিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্য সনদ টিকাগ্রহণের শর্তের বিকল্প নয়।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কয়েকটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে হজ পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, গুরুতর অঙ্গ বিকলতা; যেমন ডায়ালাইসিসনির্ভর কিডনি রোগ বা সামান্য পরিশ্রমেই উপসর্গ দেখা দেয় এমন হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা। অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ। স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিতে গুরুতর প্রভাব ফেলে এমন স্নায়বিক বা মানসিক রোগ। উল্লেখযোগ্য শারীরিক অক্ষমতার সঙ্গে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বা গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস। কেমোথেরাপি বা উচ্চমাত্রার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা-দমনকারী চিকিৎসা চলমান এমন সক্রিয় ক্যানসার। জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগ; যেমন সক্রিয় ফুসফুসের যক্ষ্মা।
এ ছাড়া হজযাত্রীকে সাধারণভাবে নিজের হজের আনুষ্ঠানিকতা ও প্রয়োজনীয় চলাফেরা নিজে সম্পন্ন করার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। সামান্য সহায়তার জন্য লাঠি ব্যবহার করা অনুমোদিত হতে পারে। তবে সম্পূর্ণভাবে হুইলচেয়ার বা স্কুটারের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণত অনুমতি দেওয়া হবে না।
হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের হজ কমিটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বিস্তারিত নির্দেশনা জানাবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের এসব বিষয়ে নিজ নিজ দেশের হজ কমিটি এবং নুসুক মাসারের সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। অনানুষ্ঠানিক বা যাচাইহীন তথ্যের পরিবর্তে সৌদি সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা ও হজসংক্রান্ত অফিসিয়াল সার্কুলারকেই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।