মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
‘ওহ আমার ঈশ্বর! পাথুম নিশাঙ্কাকে একটা সুপারম্যানের কেপ (উড়ন্ত পোশাক) পরিয়ে দিন! দায়মুক্তির কথা বলছিলাম, আর এটি এই বিশ্বকাপের দেখা অন্যতম সেরা ক্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে!’— ধারাভাষ্যকারের এক নিশ্বাসে বলা স্তুতিবাক্যটি পাথুম নিশাঙ্কাকে নিয়ে। ক্যাচ মিসের পর চোখ কপালে ওঠার মতো এক ক্যাচ নিলেন শ্রীলঙ্কার ফিল্ডার।
মাঠে তখন চলছিল নাটকীয় মুহূর্ত। আগের ওভারেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন পাথুম নিশাঙ্কা। কিন্তু পরের ওভারেই যেন সব পুষিয়ে দিলেন অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে। শ্রীলঙ্কার এই ফিল্ডার চোখের পলকে বিস্ময়কর ক্যাচ নেন একই ব্যাটারের।
দুশান হেমন্তর ফ্লাইটেড ডেলিভারি অফ স্টাম্পের বাইরেই ছিল। ম্যাক্সওয়েল হাঁটু গেড়ে বসে রিভার্স সুইপ খেলেন। ব্যাটে ভালোভাবে লাগায় মনে হয়েছিল বল বাউন্ডারি পেরিয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা নিশাঙ্কা হাওয়ায় ভেসে নিখুঁত টাইমিংয়ে বলটি তালুবন্দি করেন।
খানিক সময়ের জন্য যেন স্তব্ধ হয়ে যায় স্টেডিয়াম। এরপরই গ্যালারিতে শুরু হয় লঙ্কান সমর্থকদের উল্লাস। আর মাঠে নিশাঙ্কাকে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন তার সতীর্থরা। ১৫ বলে ২২ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ম্যাক্সওয়েল। এই ব্যাটার ফেরার পর রানের গতি আরও মন্থর হয়। তার বিদায়ে শুরু হয় ব্যাটিং ধস, ২১ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় তারা। দুর্দান্ত শুরুর পরও শেষ পর্যন্ত ১৮১ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
ওই ফিল্ডিংয়েই যে ম্যাচ আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরে নিশাঙ্কা চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিতে দলকে জেতান ১২ বল হাতে রেখে। বিস্ময়কর ক্যাচ প্রসঙ্গে ম্যাচসেরা নিশাঙ্কা বললেন, ‘প্রথম ক্যাচ ফেলার পর আমি হতাশ ছিলাম কারণ আমি জানতাম আমাদের এই উইকেট দরকার। তখনই আমি মনস্থির করলাম যে দলের জন্য বিশেষ কিছু করতে হবে আমাকে। ভেবেছিলাম, সে হয়তো ওই মুহূর্তে রিভার্স সুইপ খেলবে এবং মাঠ থেকে সেটা দেখছিলাম। সৌভাগ্যবশত ক্যাচটা নিতে পেরেছিলাম আমি।’
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)