বৃহঃস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলের নতুন আসর শুরুর আগে মালিকানা পরিবর্তন হলো রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্মিলিত দাম ৩.৪১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০০৮ সালে আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে আটটি দলের সম্মিলিত দামের (৭২৩.৫৯ মিলিয়ন ডলার) চেয়েও পাঁচ গুণ বেশি। রাজস্থান-বেঙ্গালুরুর নতুন মালিকানায় আছেন বেশ কয়েকজন আমেরিকান নাগরিক।
মনোজ বাদালে নেতৃত্বাধীন ইমার্জিং মিডিয়া কনসোর্টিয়াম রাজস্থান ফ্র্যাঞ্চাইজিতে শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ২,৩৩৩ শতাংশ লাভ করেছে। ৬৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থেকে ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে অংশীদারিত্ব বিক্রি করেছে তারা। একই দিনে জানা যায়, বেঙ্গালুরুও নতুন মালিক পেয়েছে, যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার। এই উচ্চমূল্যের পেছনে একটি সাধারণ কারণ স্পষ্ট– আমেরিকান বিনিয়োগ।
রাজস্থানের নতুন মালিকানা গ্রুপে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উদ্যোক্তা কাল সোমানি, ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী রব ওয়াল্টন– যিনি একইসঙ্গে এনএফএল (ন্যাশনাল ফুটবল লিগ) ফ্র্যাঞ্চাইজি ডেনভার ব্রোঙ্কোসেরও মালিক এবং ডেট্রয়েট লায়ন্স–এর মালিক হ্যাম পরিবার। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু মালিকানা নিয়েছে আদিত্য বারলা গ্রুপ ও টাইমস গ্রুপ, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বোল্ট ভেনচারস এবং ব্ল্যাকস্টোন। বোল্ট ভেনচারসের নেতৃত্বে আছেন খ্যাতনামা বিনিয়োগকারী ডেভিড ব্লিটজার, যার বিনিয়োগ রয়েছে বিভিন্ন লিগের দল ফিলাডেলফিয়া সেভেন্টি সিক্সার্স, নিউজার্সি ডেভিলস, ক্রিস্টাল প্যালেস এবং রিয়াল সল্টলেকে।
মার্কিন বিনিয়োগকারীরা গত এক দশকে ইউরোপীয় ফুটবল, বিশেষত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। সেই বিনিয়োগ ক্রিকেটেও ছড়িয়ে পড়ছে এখন। এমলিয়ন বিজনেস স্কুলের আফ্রো-ইউরেশিয়ান স্পোর্টসের অধ্যাপক সিমন চাদউইক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, উত্তর আমেরিকায় ভারতীয় প্রবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের বাণিজ্যিক বিস্তার– এসবই যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
এ ছাড়া গুগল এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এবং বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছেন বলেও দাবি চাদউইকের। মার্কিনীদের ক্রিকেটে আগ্রহ সৃষ্টির আরেকটি কারণ হলো তুলনামূলক কম মূল্য। উদাহরণস্বরূপ, এনএফএল–এ একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির গড় মূল্য ৫.১ বিলিয়ন ডলার এবং এনবিএ–তে ৩.৯ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় আইপিএল দলগুলো এখনও তুলনামূলক ‘সাশ্রয়ী’ এবং উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)